প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার দেশে বিশ্বমানের একটি অত্যাধুনিক ডিজিটাল থিয়েটার নির্মাণের উদ্যোগ নেবে। গতকাল শনিবার বিকালে রাজধানীর বেইলী রোডে বাংলাদেশ মহিলা সমিতির নবনির্মিত ভবন উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি আরো বলেন, দেশে একটাও বিশ্বমানের অত্যাধুনিক ডিজিটাল থিয়েটার নেই। আমরা তা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেব। অর্থমন্ত্রী এ বিষয়ে আগ্রহী। কাজেই টাকা-পয়সার সমস্যা হবে না। এই অত্যাধুনিক থিয়েটার হলটি এখানে অথবা পদ্মা সেতুর কাছে যে কনভেনশন সেন্টার হচ্ছে সেখানেও নির্মাণ করা যেতে পারে। দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে নারী-পুরুষের সমান সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি সাংস্কৃতিক বিকাশ এবং নাট্য আন্দোলনের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সার্বিক উন্নয়নে নারী-পুরুষের সমান সুযোগ সৃষ্টির প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে উন্নত, সমৃদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে সংস্কৃতির যথাযথ বিকাশও অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, আমরা উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ গড়তে চাই। সেজন্য নারী এবং পুরুষ দু’জনকেই এগিয়ে নিতে হবে। সমাজের বিভিন্ন স্তরে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে আওয়ামী লীগ সরকার আর সবক্ষেত্রেই নারীরা দক্ষতার পরিচয় দিয়ে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করেছে।
সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. চৌধুরী মোহাম্মদ বাবুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ডা. মো. মোজাম্মেল হোসেন ও সমিতির সভাপতি সিতারা আহসান উল্লাহ। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদিকা তানিয়া হক প্রধানমন্ত্রীকে মহিলা সমিতির পক্ষে ক্রেস্ট উপহার দেন এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবর্গ, সংসদ সদস্যগণ, উচ্চ পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, কূটনৈতিক মিশনের সদস্য এবং উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
দেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের বিকাশে নাট্যচর্চার বিশাল ভূমিকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর যখন মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে বাধা ছিল, তখন নাটকের মাধ্যমেই বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ জানানো হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে নাটক নীল দর্পণের ঐতিহাসিক ভূমিকাসহ ভোট ও ভাতের আন্দোলন, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনসহ দেশের সকল গণআন্দোলনে নাট্য আন্দোলনের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। সমাজকে এগিয়ে নিতে সংস্কৃতির বিকাশ ঘটানোর আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে সংস্কৃতিকর্মীদের অবদান রয়েছে। হাজারো বক্তব্য যেটা পারে না, একটা নাটক সেটা পারে। শেখ হাসিনা বলেন, থিয়েটারের প্রতি আমার আগ্রহ আছে। আগে আমি প্রায়ই থিয়েটারে নাটক দেখতাম। এখনও দেশের বাইরে গেলে থিয়েটারে নাটক দেখি। দেশের বাইরে থিয়েটারে দেখেছি মঞ্চে হেলিকপ্টার নামে, গাড়ি আসে। কিন্তু দুর্ভাগ্য, আমাদের দেশে সেই মানের থিয়েটার নেই।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তৃণমূল পর্যায় থেকে নেতৃত্ব গড়ে তুলতে প্রথম উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল স্থানীয় সরকার নির্বাচনে। আমরা অচলায়তন ভেদ করে নারীসমাজকে সামনে এগিয়ে নিয়ে এসেছি। ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মেয়েদের বিশেষ সুবিধা দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, পুরুষশাসিত সমাজে প্রতিনিয়ত প্রতিবন্ধকতাতো আসেই। সেগুলো অতিক্রম করেই আমাদের চলতে হবে। নিজেদের অধিকার নিজেদেরই আদায় করতে হবে। আর সেটা হবে তখনই যখন আমরা আমাদের মেয়েদেরকে আরও সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে পারব।
দশ অর্থনৈতিক অঞ্চলের উদ্বোধন ঘোষণা আজ
ইত্তেফাক রিপোর্টার জানিয়েছেন, দেশে আজ একসাথে দশটি অর্থনৈতিক অঞ্চলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র থেকে এই ঘোষণা দেয়া হবে। দশটির মধ্যে সরকারি চারটি এবং বেসরকারি ছয়টি অর্থনৈতিক অঞ্চল রয়েছে। অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) জানায়, ইতিমধ্যে ভূমি উন্নয়নের কাজ অনেক এগিয়েছে, বিনিয়োগ প্রস্তাবও আসতে শুরু করেছে এ অঞ্চলগুলোয়। সরকারি উদ্যোগের অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে উদ্বোধন করা হচ্ছে চট্টগ্রামের মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল, মৌলভীবাজারের শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল, বাগেরহাটের মংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং টেকনাফের সাবরাং পর্যটন অঞ্চল। টেকনাফে বিশেষ এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে পর্যটন খাতে নেয়া হবে বিশেষ উদ্যোগ। অন্যদিকে বেসরকারি যে ছয়টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের উদ্বোধন করা হচ্ছে সেগুলো হলো নরসিংদীর পলাশে এ কে খান গ্রুপ, মুন্সীগঞ্জে আবদুল মোনেম লিমিটেড, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে মেঘনা গ্রুপ, গাজীপুরে বে গ্রুপ এবং নারায়ণগঞ্জে আমান গ্রুপের অর্থনৈতিক অঞ্চল।
বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান (সচিব) পবন চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর এই অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবে। ইতিমধ্যে ৪৬টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। আরো ১৩টি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের জন্য স্থান নির্বাচন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এগুলো উদ্বোধন করা হবে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে প্রায় এক কোটি লোকের কর্মসংস্থান এবং বাড়তি ৪০ বিলিয়ন ডলার রফতানি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
