যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে সৃষ্টিকর্তার উপস্থিতিকে স্বীকৃতি দেওয়া না হলেও ভারতীয়রা সেটি থেকে ভিন্ন। তারা দেব-দেবীদের একটি সত্ত্বা হিসেবে বিবেচনা করে থাকে। তাই আইনগতভাবে আদালতে দেবতার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কখনোবা সমন জারি করা হয়ে থাকে। মামলাও হয়। আর এভাবেই আদালত অব্দি গড়ায় দেবতাদের ঘটনা।
কয়েক বছর আগে এক আমেরিকান সিনেটর সৃষ্টিকর্তার ‘মৃত্যু, ধ্বংস এবং সন্ত্রাসীমূলক’ কাজকে ‘ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড’ বলে অভিহিত করেন এবং এর বিরুদ্ধে আদালতে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারির আবেদন জানান। কিন্তু বৈধ কাগজপত্র জমা দিতে না পারা এবং সৃষ্টিকর্তার যথাযথ ঠিকানা না থাকায় মামলাটি বাতিল করে দেন বিচারক।
তবে ভারতের ক্ষেত্রে বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানে ধর্মপ্রাণ হিন্দুদের সাথে দেব-দেবীর আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। দেশের বিচার ব্যবস্থাও এসব দেব-দেবীকে বৈধ সত্তা হিসেবে মনে করে। ফলে তাদেরকে আদালতে হাজির হতে কোন বাধা নেই।

দিল্লিতে গীতা পাণ্ডে নামে একজন বলেন, তার কাছে বেশ কয়েকটি মামলার তালিকা রয়েছে, যেখানে দেবতাদের জড়িত করা হয়েছে। তাছাড়া এ মাসের শুরুতে বিহারে সরকারি জমিতে অনধিকার প্রবেশের জের ধরে দেবতা হনুমানের বিরুদ্ধে সমন জারি করা হয়। রাস্তার পাশে হনুমানের মন্দির থাকায় যানজট সৃষ্টি হয়। এ কারণে সরকার থেকে ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে অভিযোগ দায়ের করা হয়। তার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ঐ সমন জারি করে। পরে সেটি তুলে নেওয়া হয়।

এ ঘটনার পর সীতার সঙ্গে অবিচার করা প্রসঙ্গে রামের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দেন এক আইনজীবী। যদিও সেটি পরে খারিজ হয়ে যায়। তাই সাম্প্রতিক এভাবে দেশটিতে দেবতাদের আদালত অব্দি টেনে আনার প্রবণতা প্রায়শই চোখে পড়ছে।
