২৩ আসামির উপস্থিতিতেই নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের দুটি মামলার একটির বাদীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেছে আদালত। গতকাল সোমবার এ মামলায় নিহত অ্যাডভোকেট চন্দন সরকারের জামাতা ডা. বিজয় কুমার পালের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। এর মাধ্যমে আলোচিত এ মামলার বিচার কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হল। একটানা আড়াইঘণ্টা জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে চলে সাক্ষ্যগ্রহণ।
অপর মামলার বাদী নিহত কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা হোসেনের জবানবন্দি গ্রহণের জন্য ৩ মার্চ দিন ধার্য করেছে আদালত।
এদিকে, গতকাল বাদীর জবানবন্দি গ্রহণের পূর্বেই আদালত কক্ষ থেকে সাংবাদিকদের বের করে দেয়া হয়। বিচারক এজলাসে আসার পূর্বে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) আইনজীবী ওয়াজেদ আলী খোকন বলেন, সাক্ষ্যগ্রহণের কার্যক্রম চলাকালে বাদী, আসামি ও আইনজীবী ছাড়া আর কেউ এজলাসকক্ষে থাকতে পারবেন না বলে আদালতের নির্দেশনা আছে। মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনের আইনজীবী ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহাও একই কথা বলেন। এরপর গণমাধ্যমকর্মীদের আদালতের এজলাসকক্ষ থেকে বের করে দেয় পুলিশ। পরে আর তাদের ভেতরে ঢুকতে দেয়া হয়নি।
এ প্রসঙ্গে বাদী পক্ষের আইনজীবীরা বলেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য মামলার শুনানিতে সাংবাদিকদের উপস্থিতি কাম্য। প্রকাশ্য আদালতে বিচারের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু সেখানে সাংবাদিকদের আদালত কক্ষ থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। যা নজিরবিহীন। আইনজীবীরা প্রশ্ন রেখে বলেন, এটা কি ক্যামেরা ট্রায়াল?
মামলার কার্যক্রম শুরুর আগে সাংবাদিকদের বের করে দেয়া প্রসঙ্গে একটি পত্রিকাকে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ‘এটা রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) বলতে পারেন না। পিপির এ ক্ষমতা নেই। এটা কোর্টকে (আদালত) বলতে হবে।
এদিকে সাক্ষীকে জেরা করার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ না করায় আসামি তারেক সাঈদ, রানা ও নূর হোসেনের পক্ষের আইনজীবী খোকন সাহা সময় চান। আদালত ৭ মার্চ পর্যন্ত সময় মঞ্জুর করে। উভয় মামলায় অভিযুক্ত ৩৫ আসামির মধ্যে ২৩ জন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, আসামি পক্ষ গতকালও সাক্ষ্যগ্রহণ বানচাল করার চেষ্টা করেছিল। তাদের সেই চেষ্টা সফল হয়নি বিজ্ঞ বিচারকের কারণে।
এর আগে সকালে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে ঢাকা ও গাজীপুর থেকে ৫ এবং নারায়ণগঞ্জ কারাগার থেকে ১৮ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়।
