ছোট ভূমিকায় বড় অভিনেতা হতে চান সালাহ উদ্দিন

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০১৬, ১১:৩২

‘একটা বয়স’ পর্যন্ত সেলুলয়েডের হাতছানি তাড়িয়ে বেড়ায় প্রায় সবাইকেই। সেই হাতছানিতে যারা নাছোড়বান্ধার মতো লেগে থাকেন তারাই শেষমেশ দখল করেন পাদপ্রদীপের আলো। মোঃ সালাহ উদ্দিন এই ‘একটা বয়স’ এর মধ্যে পড়েন না। তার বয়স এখন ৪৩। কিন্তু তাও তিনি ৩০ অনুর্ধ্ব ছেলে-ছোকরাদের মতো সেলুলয়েড মাতানোর স্বপ্নে বিভোর।

যে বয়সে স্ত্রী-সন্তানদের ভরণপোষণের চিন্তায় অস্থির থাকার কথা সেই বয়সে সেলুলয়েডে কেন –এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহ উদ্দিন জানান, অভিনয়ের ইচ্ছেটা বাল্যকাল থেকেই ছিলো। বয়সের ব্যাপারে বলা যায়, ৪০ এর পর আনুষ্ঠানিকভাবে গান শুরু করেছিলেন কবির সুমন, তো আমি নাটক-সিনেমায় কেন নয়।

সালাহ উদ্দিন ছোট পর্দার নাটকে ছোট ছোট ভূমিকা দিয়ে বড় পর্দায় বড় কিছু করতে চান। তার মতে, টালিউডের খরাজ মুখোপাধ্যায় বা বলিউডের নওয়াজ উদ্দিন সিদ্দিকী ছোট ছোট ভূমিকা দিয়ে বড় কিছু করার জায়গায় পৌঁছেছেন। সেজন্য বলি, ভূমিকা নয়, অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসাটাই মূখ্য। চেষ্টাও দরকার এবং সেটা আমার আছেও।

সালাহ উদ্দিন বেশ কয়েক বছর ধরে থিয়েটারের সাথে জড়িত। ছোট পর্দার নাটকেও অভিনয় করেছেন। হাবিব শাকিলের ‘মাস্টার প্ল্যানার’ নামের একটা নাটকে ‘ইনফরমার’ এর ভূমিকায় দেখা গেছে তাকে। নাটকটি এনটিভি’তে প্রচারিত হয়। তবে এটা তার প্রথম কাজ নয়। তার প্রথম নাটক ‘অনিরুদ্ধ আলো’। ষাইফ রাসেলের পরিচালনায় এই নাটকে তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধার চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যিনি স্বাধিনতার জন্য হারিয়েছেন স্ত্রী-সন্তানসহ সকল পরিজনকে। নাটকটি ২০১১ সালের দিকে নির্মাণ করা হয়।
IMG0
অভিনয় পাগল এই মানুষটি হাবিব শাকিলের ‘হনন’ ও ‘রুপার নূপুর’ নামের আরও দুটি নাটকে কাজ করেছেন। নাটক দুটি সম্প্রচারের অপেক্ষায় আছে।

মূলত লেখালেখির সূত্র ধরেই সালাহ উদ্দিনের থিয়েটার-নাটকে জড়িয়ে যাওয়া। পড়াশুনা মাদ্রাসায়, কিন্তু সেটা কেবল পাঠ্যবইমূখী ছিলো না। বাবা-মা ও শিক্ষকদের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে নানান বিষয়ের বই পড়তেন তিনি। আর ছিলো লুকিয়ে লুকিয়ে দেশ-বিদেশের ছবি দেখার স্বভাব। এ দুয়ের মাধ্যমেই মনের অলিন্দে ছুঁইয়ে ছুঁইয়ে জমা হতে থাকে লেখালেখি ও অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা।

পড়াশুনা শেষে এক সময় পোশাক কারখানায় কাজ শুরু করেন সালাহ উদ্দিন। ওই সময় অন্য কিছু নিয়ে ভাবার ফুরসত পেতেন না। তাই কাজটা এক দিন ছেড়েই দেন। রক্তে যার বইপড়া, লেখালেখি ও অভিনয়ের মাতম তার হয়ত অমন পেশায় পড়ে থাকা মানায়ও না। কিন্তু বেঁচেবর্তেও তো থাকতে হবে। আর সে জন্য বই ব্যবসা শুরু করেন তিনি। সেই ছোট ব্যবসা বড় হওয়ায় এখন তিনি অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত হওয়ার মতো যথেষ্ট সময় পাচ্ছেন। ডাক পেলেই ছোট ছোট ভূমিকায় অভিনয় করছেন।