রাজস্ব ফাঁকি রোধে দেশব্যাপী অভিযানে নামছে গোয়েন্দারা

আপডেট : ০১ মার্চ ২০১৬, ২১:৪৮
রাজস্ব ফাঁকি ধরতে এবার দেশের জেলা এমনকি উপজেলা পর্যায়ে রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা দল অভিযানে নামছে। অভিযানে রাজস্ব ফাঁকি চিহ্নিত করার পাশাপাশি চোরাচালান ও অর্থপাচারের মত বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) পাশাপাশি শুল্ক গোয়েন্দ ও তদন্ত অধিদপ্তর, ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তর, কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, বিজিবি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা সমন্বিতভাবে এ অভিযান চালাবে।
 
মঙ্গলবার এনবিআরে রাজস্ব আদায় বিষয়ক এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এনবিআরের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে এতে প্রতিষ্ঠানটির ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 
 
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, চোরাচালান ও অর্থপাচারের মাধ্যমে রাজস্ব সংগ্রহ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি এতে রাষ্ট্রের নিরাপত্তাও বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এটি প্রতিরোধে সকল পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। 
 
সম্প্রতি চোরাচালান প্রতিরোধে কেন্দ্রীয় টাস্কফোর্সকে পুনর্গঠন করা হয়েছে। এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমানকে এ টাস্কফোর্সের প্রধান করা হয়। ইতিমধ্যে টাস্কফোর্সের সদস্যদের মধ্যে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় শুল্ক, ভ্যাট ও আয়কর ফাঁকির মত ঘটনাও বর্তমানে বেশ আলোচিত। রাজস্ব ফাঁকি ধরতে ইতিমধ্যে সিআইসি, শুল্ক ও ভ্যাট গোয়েন্দা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করেছে। তবে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ব্যাপকহারে অভিযান পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত এবারই নেয়া হয়েছে।
 
বৈঠকে উপস্থিত এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, রাজধানী কিংবা চট্টগ্রাম ছাড়াও দেশের অনেক এলাকা রয়েছে যেখান থেকে বড় অঙ্কের রাজস্ব আদায় হতে পারে। কিন্তু কাঙ্খিত পরিমাণ রাজস্ব সরকারের ঘরে আসছে না। বিভিন্ন উপায়ে এসব অর্থ অপ্রদর্শিত থাকছে। এক সময় সুযোগ বুঝে তা দেশের বাইরেও চলে যাচ্ছে। এতে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
 
সম্প্রতি জিএফআই পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, কেবল ২০১৩ সালেই বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৭৬ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এ প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর সরকারের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো এ বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। সম্প্রতি এনবিআর চেয়ারম্যানও বলেছেন, বাণিজ্যের আড়ালেই মূলত অর্থপচার হয়ে থাকে সবচেয়ে বেশি। অর্থপাচারের প্রায় ৮০ শতাংশই বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের আড়ালে সংঘটিত হয়ে থাকে। 
 
বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, রাজস্ব ফাঁকি ও চোরাচালান রোধে পুনর্গঠিত টাস্কফোর্স সব পক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছে। এছাড়া চলতি অর্থবছর বড় অঙ্কের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে এনবিআরের। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও এ অভিযানকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। 
 
এনবিআরের ওই কর্মকর্তা বলেন, চলতি অর্থবছরে প্রায় ৩০ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে অর্থবছরের সাত মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি রয়েছে। এ অবস্থায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড রয়েছে এমন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অভিযানের মাধ্যমে বড় অঙ্কের রাজস্ব আদায় হবে বলে আশা করছি।