মাটির রাস্তায় ১৩ হাজার ছোট সেতু ও কালভার্ট হবে

আপডেট : ০২ মার্চ ২০১৬, ০১:০৪
গ্রামীণ এলাকার মাটির রাস্তায় ১২ হাজার ৯৯৩টি ছোট সেতু ও কালভার্ট নির্মাণের জন্য ৩ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের সমতল এলাকায় স্থানীয় হাট-বাজার, গ্রোথসেন্টার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ইউনিয়ন পরিষদের সাথে কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচির আওতায় নির্মিত রাস্তাসমূহের সংযোগ স্থাপন করা হবে। কৃষি উপকরণ সহজভাবে পরিবহন ও বিপণনে সহায়তা প্রদানসহ গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে। ‘গ্রামীণ রাস্তায় ছোট ছোট (১২ মি. দৈর্ঘ্য পর্যন্ত) সেতু/কালভার্ট নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পটি  দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে চলতি বছর জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ২০১৯ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে।

 

গতকাল শেরে বাংলানগরে এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপার্সন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় মোট ৬ হাজার ৬৫৯ কোটি টাকা ব্যয়ের ১২টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়।

 

সভা শেষে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের প্রকল্পগুলোর বিষয়ে অবহিত করেন। এ সময় তিনি বলেন, দেশের সমস্ত বাঁশের সাঁকো ভেঙে কালভার্ট অথবা ছোট ছোট সেতু নির্মাণ করতে হবে। ২০১৭ সালের পর দেশে আর বাঁশের সাঁকো থাকবে না। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আগে গ্রামীণ এলাকার উন্নয়নে এ ধরনের প্রকল্প অনুমোদন দেয়ার বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, এটি একটি জাতীয় প্রকল্প। কোনো বিশেষ এলাকার জন্য নয়। যেসব স্থানে নির্বাচন চলবে সেসব স্থানে এ প্রকল্পের কাজ শুরু করা হবে না। নির্বাচনের পরে যাতে কাজ শুরু করা যায় সেভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। তাই নির্বাচনী আইনের সঙ্গে এটি সাংঘর্ষিক নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

 

গতকাল একনেকে ২৩৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে সাপোর্ট টু জয়দেবপুর-দেবগ্রাম-ভুলতা-মদনপুর সড়ক (ঢাকা বাইপাস) পিপিপি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এ প্রকল্পটি গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর ও কালিগঞ্জ উপজেলা এবং নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলা, সোনারগাঁও উপজেলা ও বন্দর থানায় বাস্তবায়ন করা হবে। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকায় প্রবেশ না করেই যাত্রীবাহী এবং মালবাহী হেভি লোডেড বাস ও ট্রাক দেশের উত্তর এবং পশ্চিম অংশ হতে পূর্ব এবং দক্ষিণ অংশে যাতায়াত করতে পারবে।

 

সভায় ৪১ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয়ে লালকুঠি মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্রের অসম্পূর্ণ কাজ সমাপ্তকরণ প্রকল্প, ১০৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ব্যয়ে জাতীয় মহাসড়ক এন-৮-এর ভূরঘাটা-বরিশাল-লেবুখালী সেতু পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন ও প্রশস্তকরণ প্রকল্প, ২২৯ কোটি ৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কমপ্লেক্স স্থাপন (১ম সংশোধিত) শীর্ষক প্রকল্প, ১৯৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে জাতীয় ল্যাবরেটরি মেডিসিন ও রেফারেল সেন্টার স্থাপন (২য় সংশোধিত) প্রকল্প, ২৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪টি টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট স্থাপন (২য় সংশোধিত) শীর্ষক প্রকল্প, ১৫১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ব্যয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন (২য় সংশোধিত) প্রকল্প, ২১২ কোটি ৪১ লাখ টাকা ব্যয়ে দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চলে (বরিশাল ও পটুয়াখালী) বীজ বর্ধন খামার স্থাপন (২য় সংশোধিত) প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে।