ঢাকা মহানগরের বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়াদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো লিগ্যাল নোটিশের জবাব না পেয়ে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট দায়ের করেন ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া। রিটে আইন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের আইজি ও ডিএমপি কমিশনারকে বিবাদী করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার সরকারকে বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়ে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টের ওই আইনজীবী। কিন্তু ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নোটিশের জবাব না পেয়ে তিনি এ রিট করেন। আগামী সপ্তাহে হাইকোর্টে রিট আবেদনটি শুনানির জন্য উত্থাপন করা হবে।
রিটে বলা হয়, আইন মেনে চলা একজন নাগরিক হিসেবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আইনগত সহায়তা করতে আমি ইচ্ছুক। তবে যে সহায়তা তারা চাইছেন তা তাদের আইনগত এখতিয়ারে পড়ে না। এভাবে ব্যক্তিগত তথ্য চাওয়ার মতো কোনো আইনি সুযোগও পুলিশের নেই। একমাত্র উপযুক্ত আদালত কর্তৃক অনুমতি পেলেই তথ্য দেয়া যায়। নাগরিকদের যেসব ব্যক্তিগত গোপনীয় তথ্য পুলিশ যেভাবে সংগ্রহ করছে, তা করার মতো প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ পুলিশের নেই। এসব তথ্যের অপব্যবহার হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে উল্লেখ করে রিটে বলা হয়, একজন নাগরিকের সুনির্দিষ্ট এসব তথ্য যদি কোনো ভুল ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের হাতে পড়ে, তাহলে ব্যক্তির ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। সংবিধানে নাগরিকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার যে অধিকার দেয়া হয়েছে, পুলিশের এ উদ্যোগে তাও ভঙ্গ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকার বিভিন্ন বাড়িতে জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের আস্তানা ও বোমা তৈরির কারখানার সন্ধান পাওয়ার পর গত বছর বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহের এই কাজ শুরু করে ঢাকা মহানগর পুলিশ। এক পৃষ্ঠার যে ফরম ভাড়াটিয়াদের পূরণ করতে দেয়া হচ্ছে, সেখানে ভাড়াটিয়ার ছবির পাশাপাশি তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, পাসপোর্ট নম্বর, ফোন নম্বর, জন্ম তারিখসহ বাসার বাসিন্দা এবং গৃহকর্মী ও ড্রাইভারের তথ্য চাওয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের লোগো সংবলিত ওই ফরমের ফটোকপি বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিয়ে আবার তা সংগ্রহ করছেন পুলিশ সদস্যরা। আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে এই ফরম সংগ্রহ করে তথ্য ভান্ডার তৈরির কাজ শুরু করা হবে বলে সোমবার জানান ডিএমপি কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান মিয়া।
