ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী আদৌ দশ বছর সাজা খেটেছেন কি না, তা তদন্ত করে আগামী এক মাসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে আইজি প্রিজনকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। নিজাম হাজারী কারাগার থেকে জামিনে না সাজায় রেয়াত পেয়ে মুক্তি পেয়েছেন, কীভাবে কতদিন কারাগারে ছিলেন-বিস্তারিত অনুসন্ধান করে ওই প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া নিজাম হাজারীর মামলা ও জামিন সংক্রান্ত সকল নথিপত্র হাইকোর্টে প্রেরণ করতে সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালতকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
আগামী ১০ এপ্রিল পরবর্তী শুনানির জন্য মামলাটি কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। নিজাম হাজারীর সংসদ সদস্য পদ চ্যালেঞ্জ করে করা রিট আবেদনের রুল শুনানির এক পর্যায়ে বিচারপতি মো. এমদাদুল হক ও বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার ডিভিশণ বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেন।
‘সাজা কম খেটেই বেরিয়ে যান সাংসদ’ শিরোনামে ২০১৪ সালের ১০ মে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়, ২০০০ সালের ১৬ আগস্ট অস্ত্র আইনের এক মামলায় নিজাম হাজারীর ১০ বছরের কারাদণ্ড হয়। কিন্তু দুই বছর ১০ মাস কম সাজা খেটে ২০০৫ সালের ১ ডিসেম্বর তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। পরে ওই প্রতিবেদন যুক্ত করে নিজাম হাজারীর সংসদ সদস্য পদে থাকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন ফেনী জেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন ভূঁইয়া।
২০১৪ সালের ৮ জুন হাইকোর্ট সংসদ সদস্য পদে থাকার প্রশ্নে রুল জারি করে। গত ১৯ জানুয়ারি হাইকোর্টে এ রুলের ওপর শুনানি শুরু হয়।
বৃহস্পতিবার রিট আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী ও অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ, নিজাম হাজারীর পক্ষে নুরুল ইসলাম সুজন ও রাষ্ট্রপক্ষে সহকারি অ্যাটর্নি জেনারেল আমিনুর রহমান চৌধুরী টিকু উপস্থিত ছিলেন। শুনানি শেষে হাইকোর্ট উপরোক্ত আদেশ দেয় বলে জানান আমিনুর রহমান চৌধুরী।
