উৎপাদনশীল খাতে ব্যাংকের স্প্রেড ৩ শতাংশ রাখার দাবি

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০১৬, ২১:২১
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগসহ উৎপাদনশীল খাতে ব্যাংকের স্প্রেড (আমানত ও ঋণহারের ব্যবধান) সর্বোচ্চ তিন শতাংশ রাখার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। 
 
বৃহস্পতিবার ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের প্রতিনিধিরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতকালে এ দাবি জানান। সংগঠনের সভাপতি আব্দুল মাতলুব আহমাদসহ ব্যবসায়ী নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। 
 
বৈঠকে ব্যাংক খাতের বিশাল আকারের কু-ঋণ বা নন পারফর্মিং লোনের বিষয়ে এফবিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে উদ্বেগ জানানো হয়। মাতলুব আহমাদ বলেন, ব্যাংকিং খাতের দীর্ঘদিনের এ বোঝা সুদের কমার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করছে। এসব কারনে ব্যবসায়ের খরচ বেড়ে যাচ্ছে। কু-ঋণ সমস্যা সমাধানে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি ‘টাস্কফোর্স’ গঠনের পরামর্শ দেন তিনি। 
 
তিনি বলেন, টাস্কফোর্স এ সমস্যার কারন চিহ্নিত করে তা সমাধানে সুপারিশ দেবে। এর ভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তিনি। 
বৈঠকে ব্যাংকের সুদের হার কমিয়ে আনতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যতাযথ পদক্ষেপেরও দাবি জানানো হয়। 
 
বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, আতিউর রহমান সুদের হার কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, বাজারভিত্তিক অর্থনীতিতে কোন কিছু চাপিয়ে দেওয়া যায় না। তবে মূল্যস্ফীতি আরো নিয়ন্ত্রন করতে পারলে ধীরে ধীরে সুদের হার নেমে আসবে। সম্প্রতি বিশ্বব্যাপী পণ্যমূল্য কম থাকায় দেশেও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ সময় তিনি ব্যাবসায়ীদের বেশকিছু দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন। 
এফবিসিসিআই সভাপতি দেশব্যাপী বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে জেলায় জেলায় শিল্প স্থাপন উৎসাহিত করতে স্বল্প সুদে ঋণ দেয়ার দাবি জানান। সেই সঙ্গে ঋণ বিতরণে গুণগত মানের প্রতি বেশি নজর দেয়া, পর্যাপ্ত মুদ্র সরবরাহ, লাগসই বিনিময় হার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, এসএমই ও নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সুদের হার নামিয়ে আনার প্রস্তাব দেন। 
 
আলোচনায় বিদেশি সংস্থা থেকে প্রাপ্ত অনুদান কিংবা সফ্ট লোনের অতিরিক্ত চার্জ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ব্যবসায়ীরা। সম্প্রতি কারখানা সংস্কারে বিদেশী অর্থায়নের উদাহরন টেনে তারা বলেন, বিদেশীরা নামমাত্র সুদে (এক শতাংশেরও কম) ঋণ দেয় অথচ ওই ঋণ গ্রাহকের হাতে আসতে ১০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, সরকারকে মুনাফা না করার আহ্বান জানানো পাশাপাশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য সুদের হার সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ নির্ধারনের দাবি জানান তারা। 
 
এছাড়া এসএমই খাতকে ইইএফ ফান্ডের অন্তর্ভুক্ত করাসহ একগুচ্ছ দাবি তুলে ধরেন তারা। 
 
এফবিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের আবাসনের জন্য দ্রুত গৃহায়ন তহবিলের কার্যক্রম শুরুর ব্যাপারে দাবি জানান। জবাবে গভর্নর এ বিষয়ে ইতিবাচক মত দেন। 
 
এ সময় অন্যদের মধ্যে এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক বজলুর রহমান, আক্তারুজ্জামান, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর জনাব আবু হেনা মো. রাজী হাসানসহ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।