'মুক্তিযুদ্ধের শুরুতেই জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিলেন। সেক্টর কমান্ডারের এক বৈঠকে জিয়া রাজনৈতিক নেতৃত্বের অধীনে যুদ্ধ করতে চাননি।' মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপি শনিবার দুপুুরে সেগুনবাগিচাস্থ গণপূর্ত ভবন মিলনায়তনে এই কথা বলেন।
মন্ত্রী গণপূর্ত ভবন মিলনায়তনে গাজীপুর জেলা জনকল্যাণ সমিতির এক সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সমিতির সভাপতি মেসবাহ উদ্দিন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরো বক্তব্য রাখেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, আজীবন সদস্য প্রকৌশলী হামিদুল হক, আবদুল বাতেন খান, লায়ন গণি মিয়া বাবুল, জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।
মুজিবনগর সরকারের অধীনে জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধ করতে বাধা দিলেও অন্য সকল সেক্টর কমান্ডারগণ পক্ষে থাকায় মাত্র নয় মাসে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে গাজীপুরের কৃতি সন্তান তাজউদ্দিন আহমদ মহান মুক্তিযুদ্ধে যেভাবে নেতৃত্ব দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছেন তার যথাযথ মূল্যায়ন হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।
১৯৭১ সালের ১৯ মার্চ গাজীপুরের সশস্ত্র প্রতিরোধ যুদ্ধ এবং ৫ মার্চে টঙ্গির শ্রমিক জনতার উপর পাক হানাদার বাহিনীর গুলি বর্ষণের কথাও তিনি তুলে ধরেন।মন্ত্রী ভাওয়াল রাজার ঐতিহাসিক মামলার কথা উল্লেখ করে বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে ভাওয়াল রাজার মামলাটি নিয়ে আজও মানুষের আগ্রহের শেষ নেই। এই মামলা নিয়ে গ্রন্থ প্রকাশ ও সিনেমা হয়েছে বলে উল্লেখ করে করেন।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী ও অন্যান্য অতিথিসহ পুরস্কারপ্রাপ্ত সকল শিক্ষার্থীকে সাংবাদিক আতাউর রহমান প্রণীত গাজীপুরের অন্যতম ঐতিহাসিক গ্রন্থ 'ভাওয়ালের মেজকুমার ও সন্ন্যাসীর রাজা' বইটি প্রদান করা হয়।
ঢাকায় বসবাসরত গাজীপুর জেলার স্থায়ী বাসিন্দাদের সংগঠন গাজীপুর সমিতি সংগঠনের সদস্যদের সন্তাদের মধ্যে থেকে পিএসসি, জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি এবং সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ ৫৫ জন শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা ও পুরস্কার প্রদান করা হয়।
