বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে ছোটখাটো সমস্যাগুলোকেও 'গুরুত্ব' দিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন ভারতে ক্ষমতাসীন দল বিজেপির মুখপাত্র এম জে আকবর। শনিবার ঢাকায় দুদেশের সম্পর্ক নিয়ে আয়োজিত এক সংলাপে তিনি এই আহ্বান জানান। প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ‘ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশের’ উদ্যোগে সপ্তমবারের মতো এই সংলাপের আয়োজন করা হয়।
তিনি বলেন, 'ইঁদুরের তৈরি মাটির ঢিবি থেকে পাহাড় তৈরি হতে পারে। যে কোনো কিছুরই বড় ইস্যু হয়ে উঠার সম্ভাবনা আছে।'
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক নিরাপত্তাহীনতার সমস্যা রয়েছে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, বিশ্বাস থাকলেই কেবল নিরাপত্তা নিশ্চিত হতে পারে।' দুদেশের মধ্যে স্থল সীমান্ত নিয়ে দীর্ঘ দিনের ঝুলে থাকা সমস্যা নরেন্দ্র মোদীর সরকার আসার পর সমাধান হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত করে এই বিজেপি নেতা বলেন, 'তবে নতুন সুযোগ আসছে। যা একসময় অচিন্ত্যনীয় ছিল তা এখন সম্ভব হচ্ছে।'
পানি বণ্টন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় সমস্যা থাকলেও ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বর্তমান সময়কেই 'সর্বোত্তম; হিসেবে ধরা হয়। উগ্রবাদের বৈশ্বিক হুমকি দুই দেশ সমানভাবেই অনুভব করছে।
সংলাপে পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক বলেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে দুই পক্ষকেই 'কাঠামোর বাইরে' এসে চিন্তা করতে হবে। সম্পর্কের গতানুগতিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে 'উদ্ভাবনীমূলক ও পথনির্দেশক উদ্যোগ' যোগ করতে হবে বলে মত দেন তিনি। সম্পর্কের উন্নয়নে উভয় দেশ একসঙ্গে কাজ করতে পারে এমন কয়েকটি সহযোগিতার ক্ষেত্র তুলে ধরেন তিনি। যার মধ্যে রয়েছে- ব্লু ইকোনমি ও বঙ্গোপসাগরে সহযোগিতা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও আনবিক শক্তি এবং মহাকাশ ও স্যাটেলাইট ক্ষেত্রে সহযোগিতার কথা। শহিদুল হক বলেন, নতুন উন্নয়ন লক্ষ্যের (এসডিজি) রূপরেখার আওতায় বাংলাদেশ ও ভারত একসঙ্গে কাজ করতে পারে।
সংলাপে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান অববাহিকাভিত্তিক পানি ব্যবস্থাপনার উপর জোর দেন। তিনি বলেন, 'স্থল সীমান্ত সমস্যা সমাধানে দুই দেশ ৪০ বছর অপেক্ষা করেছে। কিন্তু পানি বণ্টন সমস্য সমাধানে আমরা আরো ৪০ বছর অপক্ষো করতে পারি না।'
পানির সঙ্গে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা ও অভিবাসন সরাসরি সম্পৃক্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'পানির সঙ্কট আছে এমন এলাকা ছেড়ে মানুষ যেখানে পানি পর্যাপ্ত সেখানে পাড়ি জমাবে।'
পানি বণ্টন ইস্যুর প্রতি ইঙ্গিত করে ভারতের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক স্বপন দাশগুপ্ত বলেন, 'ভারত-বাংলা সম্পর্কে বড় সুযোগ এসেছে। আমাদেরকে তা আঁকড়ে ধরতে হবে। ইতিহাসে বড় সুযোগ ক্বদাচিৎ আসে।'
সংলাপে ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশনের পরিচালক অলোক বনসাল, নিরাপত্তা বিশ্লেষক আব্দুর রশীদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক দেলোয়ার হোসাইন অংশ নেন। বিডি নিউজ।
