নাসরীন স্মৃতি পদকে ভূষিত তিন নারী ও মহিলা ক্রিকেট দল

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০১৬, ১৭:৩১
সমাজ পরিবর্তনে কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ তিন নারী ও বাংলাদেশ মাহিলা ক্রিকেট দলকে নাসরীন স্মৃতি পদক ২০১৬ দিয়েছে একশনএইড বাংলাদেশ। যারা নারীর ক্ষমতায়ন, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তাদেরই এই সম্মননা দেয়া হয়।
 
রবিবার ছায়ানট অডিটরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে চারটি বিষয়ে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান করা হয়। সমাজ পরিবর্তনে কর্মজয়ী প্রতিবন্ধী তরুণ/ যুবা বিভাগে পুরস্কার পেয়েছেন পাবনার মোছা. মর্জিনা। ‘রাজনীতিতে প্রান্তিক নারী’ বিষয়ে সম্মাননা পেয়েছেন দিনাজপুরের রাজিয়া সুলতানা। ‘যৌন হয়রানি ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো’- বিষয়ে সম্মাননা পেয়েছেন রংপুরের মরিয়ম বেগম। ‘খেলাধুলায়  নারীর অবস্থা ও অবস্থান’ বিষয়ে বিশেষ সম্মাননা পেয়েছেন বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দল।
 
একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারহ কবিরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, প্রতিষ্ঠানের কার্য নির্বাহী পর্ষদের সভাপতি  ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা হাফিজ উদ্দিন খান, কার্য নির্বাহী পরিষদের সদস্য মনসুর আহমেদ চৌধুরী, নিজেরা করি- এর নির্বাহী পরিচালক খুশী কবির। অনুষ্ঠানের শুরুতে পুরস্কারপ্রাপ্তদের সংক্ষিপ্ত কর্মজীবন তুলে ধরা হয়।
 
হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে খারাপ রাজনীতি ঢুকে গেছে। ঘুণ ধরেছে সমাজের। এই ঘুনে ধরা সমাজের জন্য কাজ করছেন এবারের পুরুস্কারপ্রাপ্তরা। নারীরাই সমাজকে ঘুণ মুক্ত করবে।
 
মনসুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, একশনএইড বাংলাদেশের সাবেক কান্ট্রি ডিরেক্টর নাসরিন হক সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য কাজ করতেন। এজন্য পুরস্কারটা তাদেরকেই দেয়া হয়, যারা পিছিয়ে পড়া মানুষদের নিয়ে কাজ করেন।
 
খুশী কবির বলেন, নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় একজন কাণ্ডারী ছিলেন নাসরিন পারভিন হক। আজ যারা পুরস্কার পেলেন তারা সত্যিই সমাজের উন্নয়নে, নারীর অধিকারের জন্য কাজ করছেন। এই পুরস্কার এই মানুষদের কাজকে বেগবান করবে।
 
ফারহ্ কবির বলেন, আজকে আমাদের নারীরা নানাভাবে, নানা করণে নির্যাতিত ও অবহেলিত। এই জীবন সংগ্রামের মধ্যেও মরিয়মরা সমাজ পরিবর্তন করছে। জাহানারারা সমাজকে আলোর পথ দেখাচ্ছেন। আমরা চাই এই মানুষের সংখ্যা বাড়ুক। দূর হোক সমাজের অনিয়ম। 
 
পুরস্কার প্রাপ্ত মর্জিনা বলেন, এবারই প্রথম ঢাকায় আসলাম। এই পুরস্কার না পেলে হয়ত কখোনো আসা হত না ঢাকায়। প্রতিবন্ধী হবার করণে জীবনের শুরু থেকে নানা সমস্যায় পড়েছি। তারপরও লেখাপড়া ছাড়িনি। কাজ করেছি পিছিয়ে পড়া শিশুদের শিক্ষা দিতে। 
 
রাজিয়া সুলতানা বলেন, ছোটবেলায় অবহেলিত ছিলাম। নিজের আর্থিক ও মানুষিক কষ্টের সঙ্গে যোগ হয় মানুষের কষ্ট। তখন থেকেই মানুষের জন্য কাজ করার চেষ্টা ছিল। তাই রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া। এবার আমি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছি।এই পুরস্কার আমার দায়িত্ব আরো বাড়িয়ে দিল। আমি আপ্লুত, অভিভূত।
 
জাহানারা আলম বলেন, একসময় বাংলাদেশের ক্রিকেট বলতে শুধু পুরুষদের কথা বোঝাত। আমরা সেই ধারণার পরিবর্তন আনতে পেরেছি। এই পথচলাটা সহজ ছিল না। আমাদের দেখে অনেক নারী আজ উৎসহিত হচ্ছেন। সমাজে নানা ক্ষেত্রে নারীদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। যারা তাদের জন্য কাজ করছেন, ওই ব্যক্তিদের এই ধরণের পুরস্কার দেয়া উচিৎ।
 
উল্লেখ্য, একশনএইড বাংলাদেশর প্রায়ত কান্ট্রি ডিরেক্টর নাসরীন হকের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রতিষ্ঠানটি ২০০৭ সাল থেকে নাসরীন স্মৃতি পদক প্রদান করে আসছে।