ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ইলেক্ট্রনিক ক্যাশ রেজিস্ট্রার (ইসিআর) বা পয়েন্ট অব সেল্স (পিওএস) মেশিন বসানোর জন্য অনুমোদনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রক্রিয়াগত জটিলতা কাটছে। এখন থেকে এ ধরণের মেশিন বসানোর অনুমোদন দিতে পারবে ভ্যাটের মাঠ পর্যায়ের অফিসও। ইসিআর স্থাপন কার্যক্রমকে গতিশীল করতে সম্প্রতি এনবিআর বিদ্যমান আদেশের সংশোধন করেছে।
গত ১৫ ফেব্রুয়ারি এ সংক্রান্ত আদেশের সংশোধন করে ভ্যাট বিভাগ। এই আদেশের ফলে ভ্যাট কমিশনারেট অফিস কিংবা মাঠ পর্যায়ের অফিস থেকেও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ইসিআর মেশিন কিংবা পিওএস স্থাপনের অনুমোদন দেয়া কিংবা তদারক করতে পারবে। বিশেষত ইসিআর যাতে ট্যাম্পারিং না করা যায় সে জন্য এনবিআর নির্দেশিত বৈশিষ্ট্যসহ এ ধরণের মেশিন ব্যবহার নিশ্চিত করতে তারা কাজ করতে পারবে। এতদিন এনবিআরের কম্পিউটার প্রোগ্রামার, সিস্টেম এনালিস্ট বা সংশ্লিষ্ট মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা তা দেখভাল করতেন। কিন্তু কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়হীনতায় এই প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ সময় লেগে যেত। এছাড়া দোকানে ব্যবহৃত এসব মেশিনে কোন ধরণের ট্যাম্পারিং হচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করার জন্য কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ লোকবলেরও অভাব ছিল।
ইতিমধ্যে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়ার কথা এনবিআরকে তুলে ধরেন। তারা বলেন, এ কারনে ইসিআর বসানোর যোগ্যতা থাকা সত্বেও সব দোকানে তা স্থাপন নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
এনবিআরের ভ্যাট বিভাগের একজন ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তা বলেন, নানা বাস্তবতা বিবেচনা করে এ প্রক্রিয়াকে বিকেন্দ্রীকরণ করার পক্ষে এনবিআর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তিনি বলেন, আগের ব্যবস্থা বহাল রেখে সারা দেশের সব দেকানে ইসিআর বসানোর কাজটি কার্যত অসম্ভব ছিল।
২০০৮ সালে ১১ ধরণের দোকানে ইসিআর বা পিওএস মেশিন বসানো বাধ্যতামূলক করে এনবিআর। এগুলোর মধ্যে হোটেল, রেস্টুরেন্ট, মিষ্টির দোকান, ডিপার্টমেন্টাল ও জেনারেল স্টোর, জুয়েলারি, মেট্রোপলিটন এলাকায় শপিং মলের সব ধরনের দোকান, মাঝারি ও বড় আকারের পাইকারি ও খুচরা দোকান এ তালিকায় রয়েছে। তবে ছোট দোকানকে এ তালিকা থেকে অব্যাহতি দিয়ে তাদের প্যাকেজ পদ্ধতির ভ্যাটের আওতাভুক্ত করা হয়।
অর্থাৎ যাদের বার্ষিক মূল্য সংযোজন বা মুনাফা ৯৪ হাজার টাকা তাদের প্যাকেজ পদ্ধতিতে ভ্যাটের আওতায় রাখা হয়েছে। অবশ্য সম্প্রতি এনবিআর হিসাব করে দেখেছে, ৬৫ শতাংশ দোকানই ইসিআর বা পিওএস সফটওয়্যার স্থাপন করেনি।
