নারী দিবসে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০১৬, ২১:৫১
দেশের উন্নয়নে নারী-পুরুষ সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আন্তর্জাতিক নারী দিবসে উপলক্ষে আলাদা বাণীতে তারা এ আহ্বান জানান।
 
রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, আজকের সমাজে যে পরিবর্তন এবং উন্নয়ন হয়েছে তা পুরুষের একার চেষ্টায় নয়, বরং নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায়। অগ্রযাত্রার এই ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২১ সালের পূর্বেই বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারবে।
 
নারীর ক্ষমতায়ন, সমসুযোগ, সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা এবং জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে দারিদ্র্র্যমুক্ত সুখী-সমৃদ্ধ ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমি নারী-পুরুষ সকলকে সম্মিলিতভাবে নিরলস কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।
 
নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগামী ২০৩০ সালের মধ্যেই সমঅধিকারের একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে উঠাই যেন আন্তর্জাতিক নারী দিবসে সবার প্রত্যাশা হয় এই আশা ব্যক্ত করেন আবদুল হামিদ।
 
বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে নারী ক্ষমতায়নে রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃত উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমান সরকারের বলিষ্ঠ পদক্ষেপ ও নেতৃত্বে নারী উন্নয়ন আজ দৃশ্যমান।
 
ব্যবসা বাণিজ্য, রাজনীতি, বিচার বিভাগ, প্রশাসন, কূটনীতি, সশস্ত্রবাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী, শান্তিরক্ষা মিশনসহ সর্বক্ষেত্রে নারীর সফল অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশ ক্রমান্বয়ে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। নারীর জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করায় নারীর ক্ষমতায়নে শক্ত ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
 
১৮৫৭ সালের ৮ মার্চ  দৈনিক কাজের সময় ১২ ঘণ্টা থেকে কমিয়ে ৮ ঘণ্টা নির্ধারণ, ন্যায্য মজুরি ও কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে সোচ্চার হয়েছিলেন নিউ ইয়র্কের পোশাক কারখানার কর্মীরা; যেতে হয়েছিল কারাগারেও। এ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে ১৯১০ সালে জার্মানির নারী নেত্রী ক্লারা জেটকিন ‘নারী দিবস’পালনের ডাক দেন।
 
দিবসটি উপলক্ষে জাতিসংঘের এবারে প্রতিপাদ্য ‘প্ল্যানেট ৫০-৫০ বাই ২০৩০: স্টেপ ইট আপ ফর জেন্ডার ইক্যুয়ালিটি।’
 
বাংলাদেশে ‘অধিকার, মর্যাদায় নারী-পুরুষ সমানে সমান’ প্রতিপাদ্য নিয়ে দিবসটি উদযাপনে বিভিন্ন সংগঠনের পাশাপশি সরকার তরফ থেকেও কর্মসূচি নেয়া হয়েছে।
 
মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কক্ষে সব শ্রেণি পেশার মানুষের অংশগ্রহণে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় আলোচনা সভার আয়োজন করেছে, যাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এছাড়া ওইদিন বিকালে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির র‌্যালি হবে।
 
‘নারী-পুরুষের অঙ্গীকারে গড়ে তুলি সমতার বিশ্ব স্লোগানে ‘আমরাই পারি’ আন্তর্জাতিক নারী দিবসের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ৮ মার্চ রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আঁধার ভাঙ্গার বিশেষ আয়োজন।
 
‘সমতার প্রতিশ্রুতি’শিরোনামে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে জাতীয় প্রেসক্লাব। প্রেসক্লাব মিলনায়তনে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় হবে এই আলোচনা সভা। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে।
 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক বাণীতে বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে নারীদের আশাতীত উন্নয়ন হওয়া সত্ত্বেও এখনো অনেক পথ অতিক্রম করতে হবে।ন আসুন, আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে সকলে মিলে নারীর সমঅধিকার রক্ষা এবং ক্ষমতায়ন, মর্যাদা ও মানবাধিকার নিশ্চিতকল্পে একটি সমতাভিত্তিক বিশ্ব গড়ে তোলার অঙ্গীকার করি।
 
নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রয়াসে বাংলাদেশকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলায় পরিণত করি। সমাজ, দেশ ও বিশ্বকে আরো এগিয়ে নেই। প্রধানমন্ত্রী নারী উন্নয়নে তার সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন।
 
বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ এক বাণীতে বলেন, সামাজিক সূচকে বাংলাদেশের বিস্ময়কর সাফল্যের পেছনে নারীর বিরাট ভূমিকা রয়েছে। সামাজিক সাংস্কৃতিক-মনস্তাত্ত্বিক বৈষম্য ও নিরাপত্তাহীনতা সত্ত্বেও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
 
জাতীয় সংসদের অধিকসংখ্যক নারীদের উপস্থিতির মাধ্যমে নারীর প্রতি বৈষম্য কমতে শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেন রওশন।
 
বাংলাদেশে সংবিধান অনুযায়ী প্রথম থেকেই সব ধরনের কাজে নারীদের অংশগ্রহণ, এমনকি সিদ্ধান্ত গ্রহণ পর্যায়ে নারীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জাতীয় সংসদের অধিকসংখ্যক নারীদের উপস্থিতির মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে নারীর প্রতি বৈষম্য কমতে শুরু করেছে। তবে তা এখনও সন্তোষজনক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। বিডিনিউজ।