‘বড় রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার চাপ ব্যবসায়ীদের ওপর’

আপডেট : ০৮ মার্চ ২০১৬, ২২:০৭
সরকার অনেক বড় রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। এ অর্থ আদায় করতে গিয়ে রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর্মকর্তাদের চাপে রেখেছে। সেই চাপ আসছে ব্যবসায়ীদের ওপর। ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করতে পারছে কিনা তা দেখা হচ্ছে না। 
 
মঙ্গলবার ভ্যাট বিষয়ক এক কর্মশালায় ব্যবসায়ী নেতারা এ অভিযোগ তোলেন। এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান এতে প্রধান অতিথি ছিলেন। 
 
রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানিকারকদের সংগঠন বারভিডা ওই গাড়ি ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ভ্যাট ও নতুন আইনে ভ্যাট আদায় কীভাবে হতে তা নিয়ে ব্যবসায়ীদের সচেতন করতে ওই কর্মশালার আয়োজন করে।
 
এ সময় বারভিডার মহাসচিব মাহবুবুল আলম চৌধুরী বাবর বলেন, রাজস্ব আদায় করতে গিয়ে কর্মকর্তারা ব্যবসায়ীদের হয়রানি করেন। হয়রনি করে কিংবা আরোপ করে কোন কিছু হয় না। সেক্ষেত্রে ফাঁকির চেষ্টা হয়। এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক ও বারভিডার সাবেক সভাপতি আব্দুল হক বলেন, রাজস্ব আদায় করতে হলে ব্যবসাকে সুযোগ দিতে হবে। ব্যবসা হচ্ছে কিনা সেটি দেখতে হবে। 
 
আলোচনায় অংশ নিয়ে গাড়ি আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা আমদানি পর্যায়ে ৪ শতাংশ অগ্রিম ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) পরিশোধের পর বিক্রয় পর্যায়ে আর কোন ভ্যাট আরোপ না করার পক্ষে তাদের যুক্তি তুলে ধরেন। বিক্রয়সহ অন্যান্য সংযোজন মিলিয়ে ২৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ মূল্য সংযোজন হবে অনুমানের ওপর ভিত্তি করে আমদানি পর্যায়ে ৪ শতাংশ অগ্রিম ভ্যাট ধরা হয়। 
 
ব্যবসায়ীরা বলেন, অগ্রিম ভ্যাট আরোপের পর প্রয়োজনে গাড়ি নিবন্ধনকালে নির্দিষ্ট হারে ট্যারিফ মূল্য আরোপ করা যেতে পারে। যেটি ক্রেতা পরিশোধ করবেন।
 
অবশ্য এনবিআর কর্মকর্তারা বলেন, আগামী জুলাই থেকে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর হচ্ছে। নতুন আইন কার্যকর হলে ব্যবসায়ীরা বাধ্যতামূলকভাবে তাদের ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করতে হবে। সেক্ষেত্রে কোন গাড়ি বিক্রয়কালে কতটুকু মূল্য সংযোজন হলো তা দেখাতে হবে। সেই হিসেবে তার ওপর ভ্যাট আরোপ হবে। অগ্রিম ভ্যাট দেয়ার পর তার মূল্য সংযোজন যদি ২৬ দশমিক ৬৭ শতাংশের কম হয় তাহলে তিনি অর্থ ফেরত পাবেন। আর মূল্য সংযোজন উল্লিখিত পরিমাণের বেশি হলে তাকে প্রযোজ্য ভ্যাট পরিশোধ করতে হবে। এক্ষেত্রে অন্য কোন সুযোগ নেই। এনবিআর সদস্য ব্যরিস্টার জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, নতুন আইনে হিসাব সংরক্ষণ করতে হবে। সে অনুযায়ী প্রযোজ্য ভ্যাট দিতে হবে।
  
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে এনবিআরের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি থাকবে। তবে কর্মশালায় ব্যবসায়ীদের মতামত আগামী বাজেটে তাদের প্রস্তাব হিসেবে গ্রহণ করবেন বলে জানান।
 
বারভিডার সভাপতি আব্দুল হামিদ শরিফের সভাপতিত্বে এ সময় অন্যদের মধ্যে বারভিডার সাবেক সহসভাপতি শহিদুল ইসলাম, ঢাকা দক্ষিণ ভ্যাট কমিশনার কাজী মোস্তাফিজুর রহমান, ঢাকা উত্তরের কমিশনার মাসুদ সাদিকসহ ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।