র‌্যাংকিংয়ের চেয়ে বড় বাংলাদেশ

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০১৬, ১৪:৫৪
বাংলাদেশ দল এখন আর্ন্তজাতিক টি-টোয়েন্টি র‌্যাংকিংয়ের ১০ নম্বর দল। কিন্তু এটা নিশ্চিত করেই বলা যায়, এশিয়া কাপের পর তাদের আর ‘দশ নম্বর’ বলে বিবেচনার কোনো সুযোগ নেই। এশিয়া কাপে সাবেক ও বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দুই দল শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে চলে আসে বাংলাদেশ। সেখানে ভারতের কাছে হারলেও তাদের বিরাট ব্যাটিং চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয় স্বাগতিক দলটি।
 
চান্দিকা হাতুরুসিংহেকে প্রশ্নটা করা হয়েছিলো—এতো অল্প সময়ে দলকে তৈরী করা সম্ভব? দলের অবস্থাও তো ভালো না!
 
হাতুরুসিংহে খুব একটা হাসেন না।
 
সেদিন মুচকি হেসে বলেছিলেন, ‘ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে তো আরও অল্প সময় ছিলো। সে দলের অবস্থা তো আরও খারাপ ছিলো। চেষ্টা করলে সবই সম্ভব। টি-টোয়েন্টিতেও সম্ভব।’
 
একটা চ্যালেঞ্জ শ্রীলঙ্কান এই কোচ ইতিমধ্যে জিতে গেছেন। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে একেবারে নবীশের মতো খেলতে থাকা বাংলাদেশকে এরই মধ্যে আলোচ্য ব্যাপারে পরিণত করে ফেলেছেন। ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগেও যেমন টানা একটা অনুশীলন ক্যাম্প থেকে টেনে বের করেছিলেন পরবর্তী সময়ের দাপুটে দলকে; তেমনই টি-টোয়েন্টিতেও যেনো বের হয়ে এলো এক প্রজাপতি। নতুন চেহারার এই টি-টোয়েন্টির বাংলাদেশকে এখন বলা হচ্ছে ‘র‌্যাংকিংয়ের চেয়ে বড় দল’।
 
বাংলাদেশ দল এখন আর্ন্তজাতিক টি-টোয়েন্টি র্যাংকিংয়ের ১০ নম্বর দল। কিন্তু এটা নিশ্চিত করেই বলা যায়, এশিয়া কাপের পর তাদের আর ‘দশ নম্বর’ বলে বিবেচনার কোনো সুযোগ নেই। এশিয়া কাপে সাবেক ও বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দুই দল শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে চলে আসে বাংলাদেশ। সেখানে ভারতের কাছে হারলেও তাদের বিরাট ব্যাটিং চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয় স্বাগতিক দলটি।
 
এই টূর্নামেন্ট শেষ হওয়ার দু দিনের মাথায়ই বিশ্বকাপে বাছাইপর্ব খেলতে নেমে যেতে হচ্ছে বাংলাদেশ দলকে। ক্লান্তি, ভেন্যুর উচ্চতা, তাপমাত্রা বিবেচনায় রেখেও বলা চলে, বাছাইপর্বের দল বলতে যা বোঝায়, তা আর নেই বাংলাদেশ।
 
এই বাংলাদেশ দল ঠিক কোথায় বাকীদের চেয়ে এগিয়ে বা বাকীদের সমান?
 
ভারসাম্য। বাংলাদেশ দলটিকে এবার বিশ্বকাপের অন্যতম ভারসাম্যপূর্ন দল বলা চলে। সাত-আট নম্বর পর্যন্ত ব্যাটসম্যানরাই যাচ্ছেন উইকেটে। আবার অনায়াসে চার বিশেষজ্ঞ ফাস্ট বোলার নিয়ে খেলতে নামছে তারা। আর এই চার ফাস্ট বোলারই হয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন। তাসকিন, মুস্তাফিজ, আল আমিন ও মাশরাফি; চার জনই চার ভিন্ন ভিন্ন ধরণের ডেলিভারি নিয়ে তৈরী। পাশাপাশি দলের ভারসাম্য আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে সাকিব আল হাসান, নাসির হোসেন ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ; তিন জন অলরাউন্ডারের কাছ থেকে পাওয়া স্পিন অপশন।
 
দলের কী ফ্যাক্টর বলা চলে সাব্বির ও মাহমুদউল্লাহকে।
 
শুরু থেকে সাব্বিরের পরিচয় টি-টোয়েন্টি তারকা। নামের প্রতি কিভাবে সুবিচার করতে হয়, তা লোকে সাব্বির রহমান রুম্মনকে দেখে শিখতে পারে। টানা ভয়াবহ ফর্মে আছেন। কেবল পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচটাতে রান পাননি। তারপরও এবার এশিয়া কাপে ৫ ম্যাচে ১৭৬ রান নিয়ে মূল টূর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তিনি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চার টি-টোয়েন্টিতে রান যথাক্রমে ৪৬, ৪৩*, ৫০ ও ১। এরপর এশিয়া ভারত ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৪৪ ও ৮০ রান। ফাইনালে করেন অপরাজিত ৩২ রান।
 
রিয়াদকে একসময় বলা হতো—মিস্টার ডিপেন্ডবল। পরিসংখ্যানের বিচারে অন্তত দু বছর বিশ্বের সেরা সাত নম্বর ব্যাটসম্যান ছিলেন ওয়ানডেতে। এখন দেখা যাচ্ছে, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সাত নম্বর, মানে নেমেই চার-ছক্কার ফুলঝুরিতে ম্যাচ জেতাতেও ওস্তাদ এই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান। ৫ ম্যাচে ১২১ রান করেছেন; মাত্র ১ বার আউট হয়েছেন। ফলে গড় ছিলো ১২১.০০। আর স্ট্রাইক রেট ১৬৫.৭৫। এর মধ্যে এশিয়া কাপ ফাইনালে করেছেন ১৩ বলে ৩৩ রান। এই মুহুর্তে ইনজুরিতে থাকা মুস্তাফিজকেও বলা যায় দলের অন্যতম সেরা আকর্ষণ বা তুরুপের তাস হতে পারে। তবে বিষ্ময়কর হলেও সত্যি যে, বছর দুয়েক আগেরও স্পিন নির্ভর বাংলাদেশের এখন প্রধান দুর্বলতা স্পিন। 
 
ছোট দৈর্ঘের ক্রিকেটে তাইজুল, লিখনের মতো ক্রিকেটাররা এখনও জায়গা করে নিতে পারেননি। অন্যতম সিনিয়র আব্দুর রাজ্জাক অনেকদিন ধরে উপেক্ষিত। এদের জায়গা কিছুতেই নিতে পারছেন না আরফাত সানি। তিনি নিজেকে প্রমানই করতে পারছেন না। সবচেয়ে বিপদ হয়েছে, সেরা বোলার সাকিব আল হাসান ক্যারিয়ারের প্রথম বাজে সময় কাটাতে থাকায়। এখন অধিনায়ককে প্রধাণত ভরসা করতে হবে নাসির ও রিয়াদের ওপর।
 
অনেকের কথা বলা হলো। আসল লোকটার কথাই বলা হলো না। জনমানসে অন্তত ধারণা এই যে, নতুন চেহারার যে বাংলাদেশকে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে দাপট দেখাতে দেখা যাচ্ছে, তার সিংহভাগ কৃতিত্ব মাশরাফি বিন মুর্তজার। সবাইকে এক সুতোয় বেধে রাখা এই মানুষটিই হতে পারেন দলের সেরা অস্ত্র।