ভারতের সাথে দুই শত কোটি ডলারের ঋণরেখা চুক্তি স্বাক্ষর

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০১৬, ২০:২৮
 
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দুই শত কোটি ডলারের ঋণরেখা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ভারত। বুধবার চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাই কমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক। এ সময় ভারতের এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক যাদবেন্দ্র মাথুর ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থমন্ত্রনালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ মেজবাহউদ্দিনে চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন।
 
২০১৫ সালের জুন মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরকালে অন্যতম ঘোষণা ছিল বাংলাদেশের জন্য দুই শত কোটি ডলারের ঋণরেখা মঞ্জুর। দ্বিতীয় ঋণরেখার অধীনে বিদ্যুৎ, রেলপথ, সড়ক, পরিবহন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, জাহাজ চলাচল, স্বাস্থ্য ও কারিগরি শিক্ষাখাতের মত বিভিন্ন সামাজিক ও অবকাঠামো উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্যে চিহ্ণিত হয়েছে। ২০ বছরে পরিশোধযোগ্য (আপৎকালীন সংরক্ষণ অধিকারসহ) সুদের হার বছরে ১%।
 
দুই শত কোটি ডলারের ঋণরেখাটিই এদেশে এপর্যন্ত ভারতের সবচেয়ে বড় ঋণরেখা। বাংলাদেশকে ভারতের প্রথম একশো কোটি ডলারের ঋণরেখাটি দেওয়া হয়েছিল ২০১০ সালে। এর মধ্যে ২০ কোটি ডলার পরবর্তীকালে মঞ্জুরি সহায়তা হিসেবে রূপান্তরিত হয় এবং ঋণরেখাটি একটি সংশোধনী চুক্তির মাধ্যমে ৮০ কোটি ডলার থেকে বেড়ে ২০১৫ সালে ৮৬ কোটি ২০ লাখ ডলারে উন্নীত হয়। প্রথম ঋণরেখার ১৫টি প্রকল্পের সবগুলিই ভারতের এক্সিম বাংকের অর্থনৈতিক সহায়তায় পাওয়া গিয়েছিল। মোট ১৫টি প্রকল্পের মধ্যে ৭টি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে, বাকিগুলি বাস্তবায়নের বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।
 
এই চুক্তি স্বাক্ষর বিভিন্ন চিহ্ণিত খাতের প্রকল্পের কাজ শুরু করার পথ করে দিয়েছে। এই চুক্তিতে অবকাঠামোগত প্রকল্প ছাড়াও স্বাস্থ্য (মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন), শিক্ষা (দুটি শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের আধুনিকায়ন), এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ (৪৯টি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের আধুনিকায়ন)-এর মত সামাজিক খাতে সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে দুই দেশের অর্থনীতি অরো সংহত হবে এবং এসব ক্ষেত্রে আমাদের ফলিত সহযোগিতা আরো জোরদার হবে। ভারত সরকার ঋণরেখার অধীন প্রকল্প প্রস্তাবসমূহের দ্রুত অনুমোদন দিতে বদ্ধপরিকর।