ভারতের সঙ্গে ২০০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি স্বাক্ষর

আপডেট : ১০ মার্চ ২০১৬, ২০:০২
ভারতের সাথে আরো দুইশ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর করলো বাংলাদেশ। নমনীয় সুদে এই অর্থ ব্যয় হবে বিদ্যুত্, রেলপথ, সড়ক, পরিবহন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, জাহাজ চলাচল, স্বাস্থ্য ও কারিগরি শিক্ষাখাতের ১৪টি প্রকল্পে। ১ শতাংশ সুদ হারে এই ঋণ চুক্তির আওতায় ৭৫ ভাগ পণ্য ও সেবা ভারত থেকে সংগ্রহের বাধ্যবাধকতা থাকছে। এর আগে লাইন অব ক্রেডিটের (এলওসি) আওতায় ২০১০ সালে ভারতের সাথে প্রথম একশ কোটি ডলার ঋণ নেয়ার চুক্তি করেছিলো বাংলাদেশ। এর মধ্যে ২০ কোটি ডলার পরবর্তীকালে অনুদান সহায়তা হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়। গতবছর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঢাকা সফরের সময় নতুন করে ২০০ কোটি ডলারের নমনীয় ঋণ দিতে সমঝোতা চুক্তি হয়। তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল বুধবার ঢাকায় এই ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হলো।
 
বাংলাদেশ সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মেজবাহউদ্দিন এবং ভারতের এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক যাদবেন্দ্র মাথুর চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এসময় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ, পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক, বাংলাদেশে ভারতের হাই কমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা উপস্থিত ছিলেন।
 
ইআরডির সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মেজবাহউদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, চুক্তিটি পূর্বের এলওসির চুক্তির প্রায় অনুরূপ। চুক্তির আওতায় ৭৫ ভাগ পণ্য ও সেবা ভারত থেকে গ্রহণ করার শর্ত রয়েছে। তবে নির্মাণ উপকরণ সংগ্রহের ক্ষেত্রে ৬৩ ভাগ ভারত থেকে সংগ্রহের শর্ত থাকছে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রথম এলওসির ক্ষেত্রে এই শর্ত ছিলো সর্বোচ্চ ৮৫ ভাগ, যা পরে শিথিল করা হয়। এবারের ক্ষেত্রে এটি শিথিলও হতে পারে।
 
প্রকল্পে পরামর্শক নিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, এটি বাধ্যবাধকতা নেই, ভারত কিম্বা বাংলাদেশ অথবা উভয় দেশের সম্মতিতে পরামর্শক গ্রহণ করা যাবে। ভারত থেকে পণ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে ‘ওপেন টেন্ডার’ আহ্বান করা হবে এবং শুধু ভারতের ঠিকাদাররাই অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
 
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ বলেন, অবকাঠামোর উন্নয়নে এলওসির আওতায় প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে। তাছাড়া দ্রুত প্রকল্প পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর জন্যও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে। এই চুক্তির ফলে দু’দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো দৃঢ় হবে।
 
হাই কমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেন, অবকাঠামো এবং সামাজিক খাতের উন্নয়নে এই চুক্তি বড় ভূমিকা রাখবে। পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক বলেন, এটি শুধু অর্থের বিনিময় নয়, এর মাধ্যমে জ্ঞানভিত্তিক ও কারিগরি সহায়তাও বিনিময় হবে।
 
এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান যাদবেন্দ্র মাথুর বলেন, এলওসির আওতায় ৬৩টি দেশে  প্রায় ৬৩ বিলিয়ন ডলার ঋণ চুক্তি রয়েছে ভারতের। বাংলাদেশের সাথে দুইশ’ কোটি ডলারের এই ঋণ চুক্তিটি এপর্যন্ত ভারতের সবচেয়ে বড় ঋণ চুক্তি। এই চুক্তিতে অবকাঠামোগত প্রকল্প ছাড়াও তথ্য প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য খাতের মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন, দুটি শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের আধুনিকায়ন, ৪৯টি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের আধুনিকায়নের প্রকল্প রয়েছে। সামাজিক খাতে সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এতে দুই দেশের অর্থনীতি অরো সংহত হবে।
 

এক ১ শতাংশ সুদে এ ঋণে কমিটমেন্ট ফি দিতে হবে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। ৫ বছরের রেয়াতকালসহ ২০ বছরে এ ঋণ পরিশোধ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ে অর্থ ব্যয় নিশ্চিত করতে না পারলে ২ শতাংশ হারে সুদের অতিরিক্ত দণ্ড সুদ দিতে হবে। এর আগে নেয়া ১০০ কোটি ডলারের ঋণে ১৫টি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয় যার সাতটি শেষ হয়েছে, বাকিগুলো চলমান রয়েছে।