দেশীয় শিল্পী, সাংবাদিকদের অসম্মানের কনসার্ট

আপডেট : ১১ মার্চ ২০১৬, ২১:৪৬
বিগত কয়েক বছর ধরেই বিদেশি শিল্পীদের নিয়ে ব্যবসার পসরা সাজিয়ে বসেছেন দেশের ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানগুলো। যেখানে আমন্ত্রীত অতিথি শিল্পীরাই দেশীয় শিল্পীদের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পান। এ পর্যন্ত ভারতের বেশ কয়েকজন জনপ্রিয় শিল্পী ঢাকায় এসেছেন। কিন্তু প্রতিবারই আয়োজকদের গাফিলতি ছিল উল্লেখ করার মতো। চড়া মূল্যে এসব কনসার্টের টিকিট বিক্রি হলেও সাধারণ দর্শক থেকে শুরু করে গণমাধ্যমকর্মীদের হতে হয়েছে হয়ারানির শিকার। সেই ধারাবাহিকতার আবারও প্রমাণ পাওয়া গেলে গত ১০ মার্চ আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত অরিজিত্ সিং-এর কনসার্টে।
 
IMG0
শুরু থেকে এই আয়োজনটি আলোচনায় ছিল এবং সুষ্ঠু একটি অনুষ্ঠান করার কমিটমেন্টও ছিল আয়োজকদের পক্ষ থেকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই কথায় আর চিরে ভিজলো না। এবারও সাধারণ মানুষদের পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীদের হয়রানির বিষয়টি ছাড়িয়ে গিয়েছে বিগত ঘটনাগুলোকে। প্রথমত এই আয়োজনে কোনো ফটোগ্রাফারকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এমনকটি সাংবাদিকদের প্রতি আয়োজকদের আচরণও প্রশ্নবিদ্ধ। দিনটি বৃহস্পতিবার হওয়ায় অনেক সাংবাদিকই কাজ শেষ করে কনসার্টে যোগ দেওয়ার জন্য যান। কারণ আয়োজনটি শমি কায়সারের ‘ধানসিড়ি’ প্রতিষ্ঠান থেকে, তাই এবার সবার আগ্রহ’র খানিকটা বাড়তি জায়গা ছিল। কিন্তু শেষমেস আশাহত হয়েই ফিরতে হয়েছে। দেশের অনেকগুলো মিডিয়া আয়োজনে উপস্থিত হলেও অনেকটা অপমানিতবোধ থেকেই কনসার্টে প্রবেশ না করেই ফিরেছেন। বিশেষ করে ফটোগ্রাফারদের সাথে দায়িত্বরত কর্মীদের আচরণ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন দেশের ফটো সাংবাদিকরা।
 
শুধু গণমাধ্যমকর্মীরাই না, এই কনসার্টে গান গাওয়ার কথা ছিল দেশের জনপ্রিয় শিল্পী এলিটা করিম ও মাহাদীর। কিন্তু কনসার্ট শুরুর আগেই তারা তা প্রত্যাহার করেন। যা ছিল শেষ সময়ে মূল সমালোচনার ইস্যু। পেছনে ফিরে তাকালেও দেখা যাবে এসব কনসার্টে দেশের শিল্পীদের গুরুত্বটা ঠিক মতো দেওয়া হয় না। এ নিয়ে অনেক সিনিয়র শিল্পী বিভিন্ন পরিস্থিতে কথা বললেও তার কোনো ফলপ্রসু ফল পাওয়া যায়নি।
 
IMG1
এই কনসার্টে যোগ না দেওয়া প্রসঙ্গে এলিটা বলেন, ‘পুরো আয়োজনটি নিয়ে আমি সন্তুষ্ট ছিলাম না। প্রথমত কমিউনিকেশন ঠিকমতো হয়নি। আর কনসার্টের টিকিট, পোস্টার এবং টেলিভিশনের প্রচারণারও আমাদের ঠিকমতো উপস্থাপন করা হয়নি। এসব কারণে আমি ইভেন্টের ৪/৫ দিন আগেই সরে আসি।’
 
অন্যদিকে এই কনসার্টে যোগ দেননি সঙ্গীতশিল্পী মাহাদীও। তারও অভিযোগ ছিল অনেক এরকম। তিনি বলেন,‘একটি আস্থার জায়গা থেকে এই আয়োজনে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই আস্থাটা ছিল না। আয়োজকরা বাইরের শিল্পী নিয়ে যতটা মেতে ছিলেন আমাদের ক্ষেত্রে তেমনটা কোনোভাবেই লক্ষ্যণীয় ছিল না। এ বিষয়ে দেশের শিল্পীদের একত্রিত হওয়াটা প্রয়োজন। কারণ আমাদের দেশের অনুষ্ঠান হবে কিন্তু আমরাই গুরুত্ব পাব না। এটা অবশ্যই আমাদের জন্য বিব্রতকর। এজন্যই শেষ পর্যন্ত আমি এই কনসার্টে যোগ না দেওয়ার জন্য সিদ্ধান্ত নেই।’
 
বিগত সময় থেকে এই কনসার্ট পর্যন্ত যেসব ইভেন্ট ম্যানেজন্টে আয়োজনার দায়িত্বে ছিল তাদের বিষয়ে দেশের প্রতি কমিটমেন্ট নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বহুবার।
কারণ তারা এ পর্যন্ত বিদেশি শিল্পীদের কোটি কোটি টাকা দিয়ে কনসার্টের আয়োজন করলেও দেশের শিল্পীদের নিয়ে তাদের কোনো আয়োজনই উল্লেখ করা মতো নেই। তাই তাদের এই বিশৃঙ্খলা ও কর্পরেট আচরণ দেশের ভাবমূর্তিতে যে সুবাতাস আনছে না এটুকু বলাই যায়।