‘চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদের মৃত্যু আমাদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। এ ক্ষতি অর্থ দিয়ে পরিমাপ করা যাবে না। তবে ওই সড়ক দুর্ঘটনায় সার্বিক আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৭ কোটি ৭৬ লাখ ২৫ হাজার ৪৫২ টাকা।’
রবিবার হাইকোর্টে দেয়া জবানবন্দিতে তারেক মাসুদের স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদ এ কথা বলেন। তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরের মৃত্যুতে ক্ষতিপূরণ চেয়ে করা মামলার বিচার অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিচারপতি জিনাত আরা ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের ডিভিশন বেঞ্চে।
ওই বেঞ্চে দেয়া জবানবন্দিতে ক্যাথরিন মাসুদ বলেন, মর্মান্তিক ওই সড়ক দুর্ঘটনায় আমি আমার জীবন সঙ্গীকে হারিয়েছি। যাকে আমি ২২ বছর ধরে চিনি। আমরা একসঙ্গে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছি। তার মৃত্যুতে যে ক্ষতি হলো তা কখনো পূরণ হবার নয়।
২০১১ সালের ১৩ আগস্ট মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার জোকা এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ এবং এটিএন নিউজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মিশুক মুনীর। তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসটির সঙ্গে চুয়াডাঙ্গাগামী একটি বাসের সংঘর্ষ ঘটে। তাতে তারেক-মিশুকসহ মাইক্রোবাসের পাঁচ আরোহীর মৃত্যু হয়। আহত হয় আরো কয়েকজন। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করে। পরে ২০১৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি নিহতদের পরিবারের সদস্যরা মানিকগঞ্জে মোটরযান অর্ডিনেন্সে ১২৮ ধারায় বাসমালিক, চালক ও ইনস্যুরেন্স কোম্পানির বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ চেয়ে মানিকগঞ্জ জেলা জজ ও মোটরক্লেইমস ট্রাইব্যুনালে দু’টি মামলা করেন। যার একটি মামলার বাদী ক্যাথরিন মাসুদ। এরপর মোকদ্দমা দুটি জনস্বার্থে হাইকোর্টে বিচারের জন্য সংবিধানের ১১০ অনুচ্ছেদ অনুসারে আবেদন করা হয়।
২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি জাফর আহমেদের ডিভিশন বেঞ্চ এক রায়ে মোকদ্দমা দু’টি হাইকোর্টে বিচারের পক্ষে মত দেয়। এজন্য উপযুক্ত বেঞ্চ গঠন বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে প্রধান বিচারপতির কাছে মামলা দু’টির নথি ও আদালত বদলির আবেদনের নথি পাঠানো হয়। পরে প্রধান বিচারপতি বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য বিচারপতি জিনাত আরার নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চে পাঠান। এর ধারাবাহিকতায় রবিবার একটি ক্ষতিপূরণের মামলার বিচার শুরু হয়।
ক্যাথরিন মাসুদের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার সারা হোসেন এবং রিলায়েন্স ইন্সুরেন্স কোম্পানির পক্ষে ব্যারিস্টার ইমরান এ সিদ্দিক উপস্থিত ছিলেন।
আইনজীবীরা জানান, মামলার বাদী ক্যাথরিন মাসুদ তার সাক্ষ্যে বলেছেন, ওই ঘটনায় ৭ কোটি ৭৬ লাখ ২৫ হাজার ৪৫২ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনায় কারও মৃত্যুতে ক্ষতিপূরণ চেয়ে করা কোনো মামলা প্রথমবারের মতো উচ্চ আদালতে বিচার হচ্ছে।
