বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ হ্যাকিংয়ের অভিযোগে ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশনের (আরসিবিসি) ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক (ব্রাঞ্চ ম্যানেজার) এর বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ব্যবসায়ী উইলিয়াম গো এর আইনজীবী। কারণ উইলিয়াম গোকেও এই অর্থ কেলেঙ্কারিতে জড়ানো হয়েছে।
এবিস-সিবিএন নিউজ চ্যানেলকে একথা জানান আইনজীবী রেমন এসগুয়েরা। সেঞ্চুরিটেক্স এর মালিক গো ছাড়াও আরও পাঁচজনকে এই হ্যাকিংয়ের অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আরসিবিসিতে করা তার একাউন্টের মাধ্যমেই যুক্তরাষ্ট্রের একাউন্ট থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা চুরি হয়। এসগুয়েরা দাবি করেন, আরসিবিসির নথিতে গোয়ের স্বাক্ষরগুলো বানোয়াট এবং আরসিবিসির জুপিটার শাখায় তিনি কোনো একাউন্ট খোলেন নি।
ব্যাংকের ম্যানেজানর মায়া সান্তোম দেগুইতোর বিরুদ্ধে ভুয়া একাউন্ট খোলার অভিযোগ আনা হয়। এর আগে সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, চুরি করা ডলারগুলো পেসো মুদ্রায় রুপান্তর করে ফিরলেম নামক একটি ফার্মের মাধ্যমে অন্যান্য ব্যাংকে নেয়া হয়।

উইলিয়ামের আইনজীবী দাবি করেন, উইলিয়াম কখনোই ফিরলেম নামে কোনো ফার্মের সঙ্গে কাজ করেনি।
এদিকে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা হওয়ার আগেই ম্যানেজার মায়া দেশত্যাগ করতে পারেন নি। শুক্রবার ফিলিপাইন ছাড়তে নিনয় একুইনো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গেলে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের বাধার মুখে পড়েন তিনি।
স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে বিমানেও উঠে পড়েছিলেন সেই নারী। কিন্তু তখনি কর্তৃপক্ষ এসে তাদেরকে বিমান থেকে নামিয়ে দে।
তবে তাদের বাধা দেয়ার কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি। ম্যানিলা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মুখপাত্র ডেভিড দে ক্যাস্ত্র বলেন, ইমিগ্রেশন অফিসের আদেশে তারা তাদের বিমান থেকে নামিয়ে দেন।
ইমিগ্রেশন ব্যুরোর মুখপাত্র নিকি রায়েস বলেন, বিচার বিভাগ থেকেই মায়া দেগুইতোকে নামানোর নির্দেশ ছিল। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ চুরির ঘটনায় গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের নজরদারিতে রয়েছেন।
তবে মায়া দেগুইতোর দাবি, ‘তারা বলছে আইনের হাত থেকে আমি পালাতে পারবো না। কিন্তু আমি কোথাও পালাচ্ছি না।’
অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগ ফাঁস হওয়ার পর তিনি জীবনের হুমকি পাচ্ছেন দাবি করে বলেন, এজন্য আমি আমার ছেলেকে নিয়ে টোকিও ডিজনিল্যান্ডে যাচ্ছিলাম।
তিনি অভিযোগ করেন, তাকে বিমান থেকে নামানোর সময় তাকে কোনোরকম বৈধ কাগজপত্র দেখানো হয়নি।
‘আমার আইনজীবী ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলছিল। কিন্তু তারা বারবারই বলছিলো যে তারা শুধু নির্দেশ অনুযায়ীই কাজ করছে।’ তিনি বলেন, আমি সামান্য একজন কর্মচারি এবং আমি বুল কিছু করিনি। আমাকে কেন এসবের মাঝে টানা হচ্ছে।

তিনি আদালতে স্বাক্ষ্য দেবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘আমি ভয় পাচ্ছি, কারণ সেক্ষেত্রে আমাকে যেন কারাগারে থাকার মতোই থাকতে হবে। আমি জানি যে আমি কোনো চুরি করিনি, কোনো ভুল কাজ করিনি।’
দেগুইতো বলেন, তার শাখায় যে টাকা আসে, সেটা অনেক লম্বা সময় নিয়ে আসে। তার ব্রাঞ্চে আসার আগেই এটা অনেক প্রক্রিয়া ভেঙে আসে। তাই শুধু তাকে দোষারোপ করা ঠিক নয়।
এদিকে মায়া স্যান্তোস-দেগুইতোর গাড়িতে ২০ মিলিয়ন পেসো (ফিলিপিনো মুদ্রা) তুলতে দেখেছেন এক প্রত্যক্ষদর্শী। ধারণা করা হচ্ছে, এ অর্থ ব্যাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে চুরি হওয়া ৮১ মিলিয়ন (আট কোটি ১০ লাখ) ডলারের অংশ।
বৃহস্পতিবার ওই প্রত্যক্ষদর্শী ফিলিপাইনের সিনেট কমিটিতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় এ কথা জানান। প্রত্যক্ষদর্শীর নাম রমুয়ালদো আগারাদো। তিনি মাকাতি সিটিতে আরসিবিসির জুপিটার শাখার সাবেক কাস্টমার সার্ভিস প্রধান।
আগারাদো বলেন, গত ৫ ফেব্রুয়ারি তিনি ব্যক্তিগতভাবে কাগজের ব্যাগে ভরে ২০ মিলিয়ন পেসো দেগুইতোর গাড়িতে তুলতে দেখেছেন। প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘সাড়ে ৬টা থেকে পৌনে ৭টার মধ্যে গণনাকারী এসে একটি বাক্সে ভরেন এবং গোনেন। এবং এরপর তিনি শাখা ব্যবস্থাপক মাইয়া দেগুইতোর কক্ষে অর্থ রেখে আসেন। সেই সময় মাইয়া দেগুইতো বাইরে ছিলেন। আমার মনে হয়, তিনি এ সময় ফোনে কারো সঙ্গে কথা বলছিলেন।’
আগারাদো বলেন, ‘আমি এসব পরিষ্কার দেখতে পেয়েছি, কারণ আমি ব্যাংকের মূল দরজার সামনে বসেছিলাম। দরজা কাচের তৈরি হওয়ায় বাইরে দেখতে কোনো সমস্যা হয়নি, যদিও সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা বা পৌনে ৭টার মতো বাজে, কার্যালয়ের মধ্যে পর্যাপ্ত আলো ছিল।’
