স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, স্বাস্থ্য সম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা ও সুপেয় পানি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এমডিজি) চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও কৌশল নির্ধারণ করেছে। এ জন্য সরকার সময়োপযোগী ও বাস্তব পদক্ষেপসহ তা বাস্তবায়ন করছে।
মন্ত্রী গত বুধবার ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবায় অনুষ্ঠিত “স্যানিটেশন এন্ড ওয়াটার ফর অল” শীর্ষক মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে স্বাস্থ্য সম্মত স্যানিটেশন ও সুপেয় পানি প্রাপ্তি বিষয়ে ভবিষৎ কৌশল ও পরিকল্পনা বিষয়ক কান্ট্রি পেপার উপস্থাপনকালে এ কথা বলেন।
ইথিওপিয়ার প্রেসিডেন্ট ড. মিউলাতু টেসহোম উক্ত বৈঠক উদ্বোধন করেন। ইউনিসেফের উদ্যোগে আয়োজিত ২ দিন ব্যাপী ওই বৈঠকে বিশ্বের ৪৫টি দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ গ্রহণ করেন।
খন্দকার মোশাররফ বলেন, সুপেয় পানি নিশ্চিত ও স্যানিটেশনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। সরকার সুপেয় পানি স্বাস্থ্য সম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, শহর ও গ্রামঞ্চলের বর্তমান উৎস হিসেবে ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে প্রতি বছর পানির স্তর নেমে যাচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার ভূগর্ভস্থ পানির পরিবর্তে ভূ-উপরিস্থ পানির অধিক ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য প্রকল্প গ্রহণ করেছে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।
স্যানিটেশন ব্যবস্থা ও সুপেয় পানি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কর্মকৌশল ও পরিকল্পনা নিয়ে বিশ্বনেতৃবৃন্দ ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার সঙ্গে সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশ কাজ করার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী।
উন্নয়নে নারীর অংশগ্রহণ অপরিহার্য
স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব আবদুল মালেক বলেছেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি নিশ্চিত করতে পুরুষের পাশাপাশি নারীর অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দেশের নারী সমাজের অধিকার, মর্যাদা, আত্মকর্মসংস্থান ও ক্ষমতায়নে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে। সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অগ্রগতি অর্জনে পুরুষের পাশাপাশি দেশের নারীরা অনন্য অবদান রেখে চলেছে।
সচিব এলজিইডি মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক নারীদিবস উপলক্ষে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত শ্রেষ্ঠ আত্মনির্ভরশীল নারী সম্মাননা ও পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক জাতীয় পুরস্কার ২০১৪ ও ২০১৫ প্রদান উপলক্ষে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী শ্যামা প্রসাদ অধিকারীর সভাপতিত্বে কয়েকজন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী বক্তৃতা করেন।
নারীর অধিকার ও মর্যাদা সমুন্বত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এলজিডি সচিব বলেন, পুরুষের পাশাপাশি নারীদের দেশের উন্নয়ন কার্যে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ভিশন-২০২১ সালের মধ্যে দেশকে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত করতে নারী সমাজসহ সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।
পরে এলজিইডির শ্রেষ্ঠ আত্মনির্ভরশীল ৯ জন নারীকে এবং ৬টি সমিতিকে পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক জাতীয় পুরস্কার প্রদান করা হয়।
