বিভিন্ন কারণে সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের সবজি রপ্তানি বাধার মুখে পড়েছে। সবজিতে ছত্রাকসহ বিভিন্ন কারণে রপ্তানির অন্যতম বাজার যুক্তরাজ্যে কয়েক দফা তা নিষিদ্ধও হয়েছে। এতে মার খেয়েছে সবজি রপ্তানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। এবার সম্ভাবনাময় সবজি রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগকে কাজে লাগাতে কাজ শুরু করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সবজি উৎপাদনের বিভিন্ন স্তরে বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করা ও তা সমাধানের উপায় নিয়ে একটি গবেষণা করেছে মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউট (বিএফটিআই)। সবজি রপ্তানি প্রস্তুতি (ইআরবিভি) প্রকল্পের আওতায় বাজার সম্ভাবনা এবং সমস্যা নিয়ে কাজ করছে গবেষণা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইআরবিভির আওতায় প্রাথমিকভাবে প্রধান রপ্তানির তালিকায় থাকা আলু, টমেটো,বেগুনসহ প্রধান দশটি সবজি নিয়ে দেশব্যাপী গবেষণা হচ্ছে। কোন সবজি কোন জেলায় বেশি উৎপাদন হয়, উৎপাদন পক্রিয়ায় বীজ থেকে শুরু করে কীটনাশক ব্যবহার এবং রপ্তানি প্রক্রিয়ার সব ধাপে বিদ্যমান সমস্যা চিক্রিত করা হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধান করে রপ্তানিযোগ্য করার উপায়ও থাকছে গবেষণায়। পাশাপাশি বিশ্বের কোন দেশে বাংলাদেশি সবজির কী ধরণের সম্ভাবনা রয়েছে, কীভাবে সম্ভাবনাময় বাজারের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করা যায়-এ বিষয়গুলো গবেষণায় তুলে আনা হবে। এসব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় সুপারিশ থাকবে। এ সুপরিশের ভিত্তিতে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রকল্প কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিএফটিআইর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বিএফটিআই সারা দেশে এ গবেষণা চালাচ্ছে। গবেষণায় রপ্তানিযোগ্য সব সজবির প্রতিটির জন্য আলাদা করে বিদ্যমান সমস্যা এবং সমাধানে সুপারিশ করা হবে। শিশগিরই পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেবেন তারা।
তিনি বলেন, সজবি রপ্তানিতে চলমান সমস্যা সমাধান করা গেলে এটি রপ্তানি কয়েকগুণ বাড়বে। যে সব অভিযোগের কারণে ইউরোপের দেশগুলো বাংলাদেশ থেকে সবজি আমদানি নিষিদ্ধ করে তাও ভবিষ্যতে থাকবে না। উৎপাদন এবং রপ্তানি প্রক্রিয়ায় স্বাস্থ্য বিধি উন্নয়নের প্রক্রিয়াগত সুপারিশ দেয়া হবে। বাজার সম্প্রসারণের কৌশলও এতে থাকবে। ফলে বিদ্যমান বাধা দূর করে সবজি রপ্তানি কয়েকগুণ বাড়ানো সম্ভব হবে।
ইপিবি’র ভাইস চেয়ারম্যান মাফরুহা সুলতানা বলেন, সবজি রপ্তানি কমার পেছনে বড় কারণ হচ্ছে, উৎপাদন থেকে রপ্তানি পর্যন্ত সব পর্যায়ে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত না করা। সবজি রপ্তানি কমে যাওয়ার যে প্রবণতা চলছে তা ঠেকাতে এরকম একটি প্রকল্প প্রয়োজন ছিল।
প্রসঙ্গত, সবজি রপ্তানি সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একাধিক প্রতিনিধি দল ইপিবির সঙ্গে বৈঠক করে তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছে। ত্রেক্রতাদের উদ্যোগ নিয়ে রপ্তানিকারকদের সঙ্গেও দফায় দফায় বৈঠক করেছে ইপিবি।
ইপিবি সূত্রে জানা গেছে, বছরে ৮শ’ থেকে ৯শ’ কোটি টাকার সবজি রপ্তানি হয়। তবে ইউরোপের নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন কারণে গত কয়েক বছরে সবজি রপ্তানি কমছে। এ প্রবণতায় চলতি অর্থবছরেও সবজি রপ্তানি কমেছে। চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৯ কোটি ডলার (৭২০ কোটি টাকা) রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু ইপিবি’র হিসাবে, গত আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কমেছে ২০ শতাংশ। আর গত অর্থবছরের একই সময়ের চাইতে কমেছে ৪০ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে রপ্তানি আয় হয়েছে ৪শ’ কোটি টাকার সবজি। বাংলাদেশের সবজির প্রধান বাজার সৌদি আরব। এর বাইরে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কুয়েত, কাতার, মালয়েশিয়াও রয়েছে।
সবজি ব্যবসায়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরাও বিএফটিআই’র এ প্রকল্পটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
তারা বলেন, সবজি রপ্তানি বাড়াতে হলে দেশে আন্তর্জাতিকমানের অয়্যারহাউজ থাকতে হবে। তবে স্বাস্থ্যসম্মত সবজি রপ্তানির প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে তারা একমত।
