বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ, আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলসহ যথাযোগ্য মর্যাদায় সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হয়েছে। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী জিল্লুর রহমান ভাষা সৈনিক, বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন।
সকালে বনানী কবরস্থানে জিল্লুর রহমানের পরিবার, আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। বাদ আসর গুলশানের আইভি টাওয়ারে পারিবারিক বাসভবনে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা অংশগ্রহণ করেন। পরে জিল্লুর রহমানের রুহের মাগফেরাত কামনা করে অনুষ্ঠিত মোনাজাতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।
২০১৩ সালের ২০ মার্চ সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে জিল্লুর রহমান শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
সকালে বনানী কবরস্থানে জিল্লুর রহমানের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, জিল্লুর রহমানের ছেলে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনসহ জিল্লুর রহমানের পরিবারের সদস্যরা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, প্রয়াত জিল্লুর রহমান যে সততার উদাহরণ সৃষ্টি করেছিলেন, তা সকল রাজনীতিবিদের জন্য শিক্ষণীয়।
একজন স্বেচ্ছাসেবক হয়ে রাজনৈতিক জীবন শুরু করে দীর্ঘ ৬২ বছরের রাজনৈতিক পথচলায় দেশের ১৯তম রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন জিল্লুর রহমান। ১৯২৯ সালের ৯ মার্চ কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তার জন্ম।
জিল্লুর রহমানের বাবা মেহের আলী মিঞা ছিলেন প্রখ্যাত আইনজীবী এবং তৎকালীন ময়মনসিংহ লোকাল বোর্ডের চেয়ারম্যান ও জেলা বোর্ডের সদস্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে অনার্সসহ এমএ এবং এলএলবি ডিগ্রিপ্রাপ্ত জিল্লুর রহমান বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, বাষট্টির সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, ছেষট্টির ৬ দফা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এবং একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধসহ প্রতিটি গণআন্দোলনে অসামান্য ভূমিকা রেখেছেন।
১৯৯২ ও ১৯৯৭ সালের কাউন্সিলেও পরপর দুই বার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ২০০২ সালের কাউন্সিলে প্রেসিডিয়াম সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। জিল্লুর রহমান ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ছিলেন তিনি। পাশাপাশি সংসদ উপনেতা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
