এখনও ওর হাসিমাখা মুখ চোখে ভাসছে!
দিতির সঙ্গে আমি দুটো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছি। একটি পাকিস্তান-বাংলাদেশ যৌথ প্রযোজনার ‘লেডি কমাণ্ডো’ ও অন্যটি সুভাষ দত্তের ‘সহধর্মিণী’। আপাদমস্তক একজন ভালো মানুষ ছিল দিতি। সব সময়ই হাসি তার মুখে লেগেই থাকতো। এমন মানুষ ইন্ডাস্ট্রিতে বিরল। আমি তার আত্মার শান্তি কামনা করছি।
-শবনম
শেষবার আমাকে জড়িয়ে ধরে...
দিতি আর আমি বলা যায় একই পরিবারের সদস্য। সোহেল খুন হওয়ার পর মেয়েটা খুব কষ্ট করে দুই ছেলেমেয়েকে মানুষের মতো মানুষ করার চেষ্টা করেছে। সত্যি বলতে কী দিতি আমার জুনিয়র হলেও তার সঙ্গে আমার সম্পর্কটা ছিল বন্ধুর মতো। আউটডোরে যখন শুটিং-এ যেতাম তখন আমরা এক গাড়িতে করেই শুটিং-এ যেতাম। গল্প করতে করতে পথ হয়তো শেষ হয়ে যেত, কিন্তু গল্প শেষ হতো না। আমার নিজের প্রযোজনা সংস্থা থেকে ‘চণ্ডিদাস ও রজকিনী’ চলচ্চিত্রে তাকে নিয়ে কাজ করেছিলাম। একজন ডেডিকেটেড শিল্পী ছিল দিতি। সর্বশেষ তাকে যখন দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলাম তখন আমাকে বুকে জড়িয়ে নিয়ে চুমো খাচ্ছিল বারবার। সেই শেষ স্মৃতি কখনোই ভুলবো না। দোয়া করি আল্লাহ যেন তাকে বেহেস্তবাসী করেন।
-ববিতা
আমি ছোট বোনটাকে হারালাম
দিতির প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ‘আমিই ওস্তাদ’ চলচ্চিত্রে আমি তার বড় ভাইয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছিলাম। আর তার অভিনীত মুক্তিপ্রাপ্ত সর্বশেষ চলচ্চিত্র ‘রাজা বাবু’তে আমার স্ত্রীর ভূমিকায় অভিনয় করেছিল। সত্যি বলতে কী খুব দুঃখ হচ্ছে দিতির এভাবে চলে যাওয়া নিয়ে। এটা সত্যি যে, শিল্পীদের অনেক যুদ্ধ করতে হয়, সংগ্রাম করতে হয়। দিতির সেই সাহস ছিল যুদ্ধে জয়ী হওয়ার। জীবনযুদ্ধে দিতি জয়ী হয়েছিল। কিন্তু আমি যেন আমার ছোটবোনটাকে হারালাম!
- চিত্রনায়ক উজ্জ্বল
এতো হাসি-খুশি মানুষ দেখিনি!
আমজাদ হোসেন পরিচালিত ‘কাল সকালে’ চলচ্চিত্রে দিতি আপুর সঙ্গে কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছিল আমার। এরপর আর কাজ করার সুযোগ হয়নি। দিতি আপু অসাধারণ একজন মানুষ ছিলেন। তার মতো এতো বিনয়ী, এতো হাসি-খুশি মানুষ চলচ্চিত্রে দেখিনি আমি। আমার দুভার্গ্য যে, হয়তো তাকে শেষ দেখাটা দেখতে পারবো না। কারণ আমি একটি জরুরি কাজে দিনাজপুর এসেছি।
-ফেরদৌস
আমার একজন ভালো সহকর্মী
আমাদের প্রত্যেককেই দিতির মতো একদিন চলে যেতে হবে। তার এভাবে চলে যাওয়া থেকে আমাদের সবাইকে শিক্ষা নিতে হবে যে, আমাদেরকেও যেকোনো সময় আল্লাহর কাছে চলে যেতে হবে। দিতি আমার একজন ভালো সহকর্মী ছিল। তার চলে যাওয়ায় শুধু একটি কথাই বলবো, আর তা হলো—আল্লাহ যেন তার গুনাহ ক্ষমা করে দিয়ে তাকে বেহেস্ত নসীব করেন।
-ইলিয়াস কাঞ্চন
মানুষ কতটা উদার হতে পারে
দিতি আপুর সঙ্গে চলচ্চিত্রে আসার প্রথমদিন থেকেই আমার বেশ ভালো পরিচয় ও পারিবারিক সম্পর্ক। সৈয়দ হারুনের একটি চলচ্চিত্রে তার সঙ্গে প্রথম অভিনয় করি। এরপর ‘আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা’, ‘সুইট হার্ট’সহ আরও বেশকিছু চলচ্চিত্রে অভিনয় করি। একজন মানুষ কতটা উদার আর মহান হতে পারেন দিতি আপা ছিলেন তার যথাযথ উদাহরণ। এমন মানুষ সত্যিই আমাদের চলচ্চিত্র জগতে খুবই কম আছেন। তার এভাবে চলে যাওয়াটা সত্যিই মেনে নেওয়ার মতো নয়। দোয়া করি আল্লাহ যেন তাকে বেহেস্ত নসীব করেন।
-রিয়াজ
আমার অভিভাবক
চলচ্চিত্রে আমার প্রিয় মানুষদের মধ্যে অন্যতম একজন ছিলেন দিতি আপা। তার এভাবে চলে যাওয়াতে সত্যিই ভীষণ ক্ষতি হয়ে গেল আমাদের। দিতি আপু শুধু একজন অভিনেত্রীই ছিলেন না, আমাদের একজন অভিভাবকও ছিলেন। একজন মানুষ কতটা বড় মনের হতে পারে তিনি যেন তারই উদাহরণ।
-পূর্ণিমা