কোনো বিদেশি নাগরিক বাংলাদেশে ১০ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করলে অথবা কোনো স্বীকৃত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ২০ লাখ মার্কিন ডলার ট্রান্সফার করলে তিনি এ দেশের নাগরিকত্ব পাবেন। এ বিধান রেখে জাতীয় শিল্পনীতি ২০১৬ এর খসড়ার অনুমোদন দিয়েছেন মন্ত্রিসভা।
সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বেঠকে এই অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।শফিউল আলম জানান, ২০১০ সালের শিল্পনীতি আপডেট করে এবারের শিল্পনীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। আগের শিল্পনীতিতে কোনো বিদেশি ৫ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেই বাংলাদেশের নাগরিক হতে পারতেন। আর এখন ১০ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব নিতে হবে।
তিনি জানান, পাঁচ বছরের জন্য কোনো বিদেশি বাংলাদেশে বৈধভাবে বসবাস করতে চাইলে ৭৫ হাজার মার্কিন ডলার ফি দিতে হতো। এখন ফি দিতে হবে দুই লাখ মার্কিন ডলার। এছাড়া আগের শিল্পনীতি অনুযায়ী কোনো স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ১০ লাখ মার্কিন ডলার বাংলাদেশে স্থানান্তর করলেই নাগরিকত্ব পাওয়া যেতো। এবার তা বাড়িয়ে করা হয়েছে ২০ লাখ মার্কিন ডলার।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের জানান, ১০ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ ও স্বীকৃত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ২০ লাখ মার্কিন ডলার স্থানান্তর করলে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য বিবেচিত হবেন। এটা আগে ছিল যথাক্রমে ৫ লাখ ও ১০ লাখ মার্কিন ডলার।
তিনি আরও বলেন, ১২তম অধ্যায়ে বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, সবুজ উচ্চপ্রযুক্তি সম্পন্ন উদ্ভাবনীমূলক এবং যে সব শিল্পে দক্ষতা ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের সুযোগ রয়েছে সে সব শিল্পে প্রত্যক্ষ বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হবে। তাদের জন্য বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ও ওয়ান স্টপ সার্ভিস থাকবে। ঋণগ্রহণের সুযোগ অব্যাহত রাখা ছাড়াও শিল্পপার্ক স্থাপন এবং সংশ্লিষ্ট দেশের ভ্যালু চেন-এ যুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকবে। বিদেশি বিনিয়োগকারীকে পার্মানেন্ট রেসিডেন্সের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনে ন্যূনতম ৭৫ হাজার ডলার বিনিয়োগের শর্ত বাড়িয়ে দুই লাখ ডলার করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সম্ভাবনাময় বিদেশি বিনিয়োগকারীকে ন্যূনতম ৫ বছরের মাল্টিপল ভিসা দেয়া হবে। দেশীয় শিল্প উদ্যোক্তাদের মতো বিদেশি উদ্যোক্তারা কর অবকাশ, রয়্যালটি, প্রযুক্তি কৌশল ফি ভোগ করবেন। তবে নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে বিদেশিরা আগ্রহী কম। সরকারের পক্ষ থেকে সুযোগ রাখা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম বলেন, বিদ্যমান জাতীয় শিল্পনীতি ২০১০-এর আধুনিকীকরণ ও এ ধরাবাহিকতা বজায় রেখে এই প্রস্তাবিত নীতি প্রণয়ন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা তহবিল (সংশোধনী) আইন ২০১৬’ও নীতিগতভাবে অনুমোদন দেয়া হয়েছে।শফিউল আলম বলেন, এদিন মন্ত্রিসভায় সেনা নিবাস আইন, ২০১৬’র খসড়া উপস্থাপন করা হয়েছে।
ফোকাস বাংলা।
