ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার আলোচিত সেই শিশু রবিনকে জীবিত অবস্থায় পাওয়া গেছে। অথচ, এই রবিনকে হত্যার অভিযোগে তার বাবা রফিকুল ইসলাম ১৬ দিন ধরে জেল হাজতে রয়েছেন। গত ৬ মার্চ নান্দাইল মডেল থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ রফিকুলকে পুত্র হত্যার অভিযোগে উপজেলার ভাটিসাভারের বিলপাড় এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। গত ২৯ ফেব্রুয়ারি উপজেলার চন্ডীপাশা ইউনিয়নের ডাংরিবন্দ এলাকায় ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের অদূরে এক অজ্ঞাত শিশুর মৃতদেহ ফসলের ক্ষেত থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মৃতদেহটি অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে মর্গে পাঠানো হয়। লাশ উদ্ধারের ৬ দিন পর ছবি দেখে রবিনের বড় ভাই নূরুল ইসলাম জীবন শনাক্ত করে সেটি তার ছোট ভাইয়ের। পরে পুত্র হত্যার অভিযোগে পিতা রফিকুলকে গ্রেফতার করা হয়। পারিবারিক কলহের জেরে রফিকুলের দ্বিতীয় স্ত্রী তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করায় তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানা যায়।
জানা যায়, গত ফেব্রুয়ারি মাসে রবিনকে তার বাবা ঢাকার মিরপুর এলাকায় বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তার বাসায় কাজে দেন। গত ৮ মার্চ খেলতে গিয়ে বাসার ছাদ থেকে পড়ে রবিন গুরুতর আহত হয়। এতদিন রবিন ঢাকার সিএমএইচ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন ছিল। চিকিত্সা শেষে রবিনকে তার পরিবারের লোকজনের হাতে তুলে দেয়া হয়। গতকাল সোমবার রবিনকে তার চাচা আব্দুস সালাম ও বড় ভাই নূরুল ইসলাম জীবন নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। রফিকুল ইসলামের ভাই আব্দুস সালাম পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, আমার ভাইকে পুলিশ গ্রেফতার করে নির্যাতন চালিয়ে জোরপূর্বক হত্যার স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করেছিল। সে বারবার রবিনকে ঢাকায় কাজে দিয়েছে বললেও পুলিশ তা বিশ্বাস করেনি।
