রাজশাহীর গৃহবধূ ওয়াহিদা সিফাত হত্যা মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আহম্মেদ আলী চারজনের বিরুদ্ধে রাজশাহীর চীফ মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে এই অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
অভিযোগপত্রে নিহত সিফাতের স্বামী আসিফ, সিফাতের শ্বশুর মোহাম্মদ হোসেন রমজান, শাশুড়ি নাজমুন নাহার নাজলী এবং প্রথম ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জোবাইদুর রহমানকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘদিন তদন্ত শেষে প্রমাণ মিলেছে সিফাত আত্মহত্যা করেননি। তাকে হত্যা করা হয়েছে। আঘাতজনিত কারণে সিফাতের মৃত্যু হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সিফাতের লাশের প্রথম ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক আত্মহত্যার ভুল প্রতিবেদন দিয়েছিলেন। তাই অভিযোগপত্রে ওই চিকিৎসকের নামও উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ২৯ মার্চ সন্ধ্যায় রাজশাহীর মহিষবাথান এলাকায় অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন রমজানের বাড়িতে রহস্যজনক মৃত্যু হয় গৃহবধূ ওয়াহিদা সিফাতের। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। প্রথমে সিফাত আত্মহত্যা করেছে বলে তার শশুরবাড়ির লোকজন দাবি করলেও পরে দ্বিতীয় ময়নাতদন্তে হত্যাকাণ্ড প্রমাণিত হয়।
এ ঘটনায় মহানগরীর রাজপাড়া থানায় দায়ের করেন সিফাতের চাচা মিজানুর রহমান খন্দকার। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী/০৩) এর ১১(ক)/৩০ ধারায় যৌতুকের দাবিতে হত্যা ও সহায়তা করার অপরাধে দায়ের করা এই মামলায় সিফাতের স্বামী মো. আসিফসহ তিনজনকে আসামি করা হয়। রাজপাড়া থানা পুলিশ মামলাটি তদন্ত সফল না হওয়ায় মামলাটি মহানগর গোয়েন্দা পুলিশে (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়। সেখানেও মামলার অগ্রগতি না হওয়ায় পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে মামলাটি সিআইডিতে স্থানান্তর করা হয়।
