কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় ধর্ষণের পর হত্যা করা কলেজছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনুর বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।
সোমবার সন্ধ্যায় জেলার মুরাদনগর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়। তনু কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডর অফিস সহকারী ও উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের ইয়ার হোসেনের কন্যা।
তনুর আত্মার মাগফেরাত কামনা করে শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করার জন্য বৃস্পতিবার সকালে তার পরিবারে কাছে ছুটে যান মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনসুর উদ্দিন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজগর আলী। এ সময় জেলা প্রশাসক ও মুরাদনগর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১০ হাজার করে ২০ হাজার টাক তার পরিবারের কাচ্ছে হস্তান্তর করেন এবং জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে এক খণ্ড খাস জমি শোকাহত পরিবারটিকে দেয়ার ঘোষণা দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মনসুর উদ্দিন। পরে তনুর কবর জিয়ারত করেন উপজেলা প্রশাসন।
IMG0
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ইতিহাস বিভাগের (সম্মান) ২য় বর্ষের ছাত্রী ও ভিক্টোরিয়া কলেজ থিয়েটারের সদস্য সোহাগী জাহান তনু গত রবিবার সন্ধ্যায় প্রাইভেট পড়ানো জন্য বের হয়। পরে বাসায় ফিরে না আসায় তাকে খোঁজাখোঁজি করে পরিবারের সদস্যরা। রাতে ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন কালভার্টের পাশে ঝোপের মধ্যে তার লাশ পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে নিহতের পিতা ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে পরদিন কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাত পরিচয় ব্যাক্তিদের নামে হত্যা মামলা করেন। ৫দিন পেরিয়ে গেলেও এ পর্যন্ত ঘাতকদের শনাক্ত করতে না পারায় পরিবারের সদস্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সোহাগীর বাবা ইয়ার হোসেন জানান, তনুকে জখন পাই তখন মাথার পেছন দিকে আঘাতের চিহ্ন ও মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। তিনি আরো জানান, পরিবার পরিজন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তাই আমরা গ্রামের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি। মেয়ে হত্যার রহস্য উদঘাটন ও খুনিদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তিনি।
