আসন্ন জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং নারী স্বাস্থ্য সেবার ৫০ শতাংশ বরাদ্দ রাখার দাবি করে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ।
বৃহস্পতিবার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে সংগঠনের সুফিয়া কামাল ভবনে নারীর স্বাস্থ্য অধিকার ও জাতীয় বাজেট বিষয়ক চিকিৎসকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ দাবি করা হয়।
পরিষদের সভাপতি আয়শা খানমের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহ-সভাপতি ডা. মাখদুমা নার্গিস। এছাড়া অন্যান্য চিকিৎসকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ডা. লতিফা শামসুদ্দিন, ডা. রওশন আরা বেগম, ডা. দীপা ইসলাম, লয়লা আরজুমান্দ বানু, ডা.কিশোয়ার সুলতানা, ডা. ফারজানা ইসলাম, ডা. সালমা রউফ, ডা. শেফালি বাহার, ডা. শামিম আফরোজ আলভী, ডা. রাতু রুমানা বিন্তে রহমান, ডা. ফ্লোরিডা রহমান, ডা. শারমিন জাহান, ডা. শেফালি খাতুন, ডা. মালিহা রশিদ, ডা.রহিমা বেগম, ডা. শায়লা ইসলাম কান্তা, ডা. মাহমুদা বেগম, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু প্রমুখ।
বক্তরা কিশোরী স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বরাদ্দ করার বিষয়টিও সভায় উল্লেখ করেন। কিশোরী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণের জন্য স্কুলগুলোতে যেন তাদের আলাদা সেবা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয় সেই লক্ষে বাজেট বরাদ্দের দাবি করা হয় এই সভায়। সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে নারীর স্বাস্থ্য সেবার পাশাপাশি যেন কাউন্সিলিং এর জন্য একটি ব্যবস্থা থাকে এবং সরকারি চিকিৎসা সেবাকেন্দ্রগুলোকে যেন নারীবান্ধব করে তোলা যায় জন্যও যথাযথ পরিমাণে বাজেট বরাদ্দের দাবি করা হয় সভায়। বাজেটে নারীর মৌলিক সাস্থ্য সেবা নিশ্চিতকরণের জন্য যথাযথ বরাদ্দের জন্য এই সভায় দাবী করা হয়।
অলোচনায় বক্তারা বলেন, শুধুমাত্র নারী হয়ে জন্মানোর কারণে জন্ম থেকেই একজন মানুষ নানা ধরণের বৈষম্যের শিকার হয়ে থাকে। এই বৈষম্য সর্বপর্যায় পর্যন্ত একজন নারীর জীবনে বিদ্যমান থাকে। তারা বলেন, নারীদের জীবনে নারীরা নারী হিসেবে কিছু শারীরিক সমস্যার সম্মুখিন হন যেগুলোর জন্য আলাদা চিকিৎসা ব্যবস্থা থাকা উচিৎ এবং সরকারকে আলাদা পদক্ষেপ নেয়া উচিৎ। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ মনে করে আজ এই অবস্থানে এসে নারী স্বাস্থ্যের ওপর জাতীয় বাজেটে একটি বড় অংশ বরাদ্দ থাকা উচিৎ।
ডা. মহামুদ হাসান বলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী কমপক্ষে ৪২ ডলার যদি মাথা পিছু স্বাস্থ্য খাতে খরচ করা যায় তাহলে তা মৌলিক স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে পারবে। অন্যদিকে আমাদের দেশে তা হচ্ছে মাত্র ২৭ ডলার। তিনি বলেন, আমাদের উচিৎ সরকারকে বলা স্বাস্থ্য এবং শিক্ষা খাতে আরো অধিক অর্থ বরাদ্দ রাখা। সাধারণ স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি নারী স্বাস্থ্য সেবার ওপর অধিক গুরুত্ব আরোপ করা।
