সরকারকে ধ্বংস করতেই এমন নির্বাচন : কাদের সিদ্দিকী

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০১৬, ২০:৪০
 
কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি ও বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, নির্বাচন কমিশন সবচেয়ে বড় অপদার্থ। সরকারকে ধ্বংস করতেই তারা এমন নির্বাচন করে ষড়যন্ত্র করছে। শুক্রবার দুপুরে বাদ জুম্মা গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কবরের পাশে বসে ফাতেহাপাঠ ও দোয়া-মোনাজাত শেষে স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে এ সব কথা বলেন তিনি।
 
তিনি বলেন, নির্বাচনের দিন হাজার মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়েছে। ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্স কাড়াকাড়ি হয়েছে। এ দিন ১২ জনের প্রানহানীর পরেও  প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলছে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। এমন নির্বাচন আমরা চাই না। নির্বাচন ভালো হওয়া দরকার। স্থানীয় সরকার নির্বাচন ভাল হলে যোগ্য লোক নির্বাচিত হবেন। তারা খুশি মনে ইউনিয়ন পরিষদ উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভা চালাবে। নির্বাচন সুষ্ঠু হলে আমারা আমাদের দেশ ভাল ভাবে চালাতে পারবো।
 
নির্বাচনে ১২ জনের প্রানহানী প্রসঙ্গে কাদের সিদ্দিকী বলেন, শিশুকে গলা টিপে হত্যা, মাতৃ গর্ভে শিশু গুলিবিদ্ধ হওয়া, বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা চুরি ও ছোনের ঘরের এক গরীবের টাকা চুরি ঘটনায় সরকারের যেমন দায় দায়িত্ব রয়েছে। মেমনি নির্বাচনে  ১২ জনের প্রানহানীর ঘটনায়ও সরকারের দায় দায়িত্ব রয়েছে।
 
তিনি বলেন, আমার রাজনৈতিক পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। স্বাধীন দেশে এখন আমরা মারামারি কারাকারি করছি। বঙ্গবন্ধু এটি চান নি। আমি বঙ্গবন্ধু আহ্বানে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। তাঁর জন্যই দেশের  সেবা করার সুযোগ পেয়েছি। আল্লাহ আমার রাজনৈতিক পিতা বঙ্গবন্ধুর সমস্ত গুনহা মাফ করে তাকে বেহেস্তবাসী করুন। এই দেয়া করেছি।
 
এর আগে দুপুরে কাদের সিদ্দিকী টুঙ্গিপাড়া পৌছে বঙ্গবন্ধুর পারিবারিক মসজিদে জুম্মার নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে তিনি কৃষক শ্রমিক জনাতা লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার বীর প্রতিক, দলের কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য ফরিদ আহম্মেদ রফিকুল ইসলাম, যুব আন্দোলনের সভাপতি হাবিবুন্নবী সোহেল, ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাতুল ইসলাম সহ দলের শতাধিক নেতা কর্মী নিয়ে বঙ্গবন্ধুর কবরে ফাতেহাপাঠ ও দোয়া মোনাজাত করেন।
 
এর পর কাদের সিদ্দিকী বঙ্গবন্ধুর কবরের পাশে বসে এক একা পবিত্র ফাতেহাপাঠ ও বঙ্গবন্ধু রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া-মোনাজাত ও কান্নাকাটি করেন।
কাদের সিদ্দিকী বলেন, দীর্ঘ দিন ধরেই বঙ্গবন্ধুর বাড়ির মসজিদে জুম্মার নামাজ আদায় ও বঙ্গবন্ধুর কবরে ফাতেহাপাঠ করার ইচ্ছা ছিলো। আজ শুক্রবার সে ইচ্ছা পুরন হয়েছে। এ জন্য আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি।