পুঁজিবাজারে গত প্রায় দেড় মাসে ব্যাপক দরপতন হয়েছে। তবে এ দরপতনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখছে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো। গত দেড় মাসে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো অন্তত ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত দর হারিয়েছে। ভালো মুনাফা করলেও এ কোম্পানিগুলো শেয়ারদর হারিয়েছে।
এর কারণ হিসেবে বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনেকদিন ধরেই বাজারে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। বিশেষ করে বাজারে সূচকের পতন হলেও এ কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর সেভাবে কমেনি। বিনিয়োগকারীরা এ শেয়ারগুলো ধরে রেখেছেন। তবে এখন বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মুনাফা তুলে নেয়ার প্রবণতা দেখা দেয়ায় শেয়ারগুলোর দাম কমছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে, দেশের শেয়ারবাজারে বিভিন্ন খাতে ১২টি বহুজাতিক কোম্পানি তালিকাভুক্ত রয়েছে। কোম্পানিগুলো হলো- ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো, বাটা সু, সিঙ্গার, লিন্ডে বিডি, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, হাইডেলবার্গ সিমেন্ট, গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন, গ্রামীণফোন, বার্জার পেইন্টস, রেকিট বেনকিজার, আরএকে সিরামিকস ও ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেড। ২০১০ সালের ধসের পর বহুজাতিক এসব কোম্পানিতে দেশি-বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়তে শুরু করে। তাই গত তিন বছরে এ কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর কয়েকগুণ পর্যন্ত বেড়েছে। তবে শেয়ারদর বাড়লেও ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় পৌঁছায়নি বলেই মনে করেন বাজার বিশ্লেষকরা। কারণ এ কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশের হার অনেক বেশি।
বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর মধ্যে গত এক-দেড় মাসে সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে সিঙ্গার বাংলাদেশ লিমিটেডের শেয়ার। এ কোম্পানির শেয়ারদর কমেছে ২৪ ভাগেরও বেশি। ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকোর শেয়ারদর কমেছে প্রায় ২১ শতাংশ। বাটা সু কোম্পানির শেয়ারদর গত দেড় মাসে ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ১৭০ টাকায় নেমে এসেছে। ১২ থেকে ১৫ শতাংশ দর হারিয়েছে সিমেন্ট খাতের দুই বহুজাতিক কোম্পানি হাইডেলবার্গ ও লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট।
