পাকিস্তানের চেয়ে আর্থ-সামাজিক অনেক সূচকেই এগিয়ে বাংলাদেশ। এ তালিকায় যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন ক্ষেত্র। একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার সাম্প্রতিক র্যাঙ্কিংয়ে ব্র্যান্ড ভ্যালুতে পাকিস্তানের চাইতে বেশ এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ। লন্ডনভিত্তিক ব্র্যান্ড ফাইন্যান্স নামক একটি স্বাধীন ব্র্যান্ড মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠানের তৈরি করা ওই র্যাঙ্কিংয়ে দেখা গেছে, বাংলাদেশের ব্র্যান্ডের মূল্যমান ১৪৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ১৪ হাজার ৪শ’ কোটি মার্কিন ডলার। একই সময়ে পাকিস্তানের ব্র্যান্ড ভ্যালু ৯ হাজার ৩শ’ কোটি ডলার। ১শ’টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৪৭তম। একই সময়ে পাকিস্তানের অবস্থান ৫৪তম। প্রতিবেশী দেশ ভারতের অবস্থান ৭ম। আর যুক্তরাষ্ট্র এ তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছে।
এক বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশের ব্র্যান্ড ভ্যালু বেড়েছেও দ্রুত গতিতে। গত ২০১৪ সালের তুলনায় পরবর্তী বছরে তা বেড়েছে ২৫ শতাংশ। দ্রুত গতির ব্র্যান্ড বাড়ার ১০ দেশের তালিকায়ও রয়েছে বাংলাদেশ। একশ’ দেশের উপর লন্ডনভিত্তিক ‘ব্র্যান্ড ফাইন্যান্স’ ওই তালিকা তৈরি করে থাকে। যাতে বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক সূচকের সহায়তা নেয়া হয়। ‘ফিউচার ব্র্যান্ড’ নামে লন্ডনভিত্তিক অন্য একটি কনসালট্যান্সি ফার্মের হিসাবে ২০১৪-১৫ সালে ব্র্যান্ড সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ৭২তম। আর পাকিস্তানের অবস্থান ৭৫তম।
২০১১ সালে ওয়াশিংটনভিত্তিক ইস্ট-ওয়েস্ট কমিউনিকেশন্সের র্যাঙ্কিংয়ে ২শ’ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৭৭তম। আর পাকিস্তানের অবস্থান ছিল ১৯৫তম।
ব্র্যান্ড ভ্যালু একটি দেশের আর্থ-সামাজিক গতি প্রকৃতির নির্দেশক। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আর্থ সামাজিক কয়েকটি বিষয় বাংলাদেশের ব্র্যান্ড মূল্যায়ন এগিয়ে নিতে সহায়তা করছে। বর্তমানে জনতত্ত্বের সুবিধাজনক অবস্থানে (ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড) রয়েছে বাংলাদেশ। অর্থাৎ অন্যান্য দেশের তুলনায় কর্মক্ষম জনসংখ্যায় (১৮ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে) এগিয়ে বাংলাদেশ। বিপুলসংখ্যক নারী শ্রমশক্তিতে আসছে। অন্যদিকে বাড়ছে উদ্যোক্তাশ্রেণীও। এছাড়া উদীয়মান বাজার হওয়ার ক্ষেত্রে ভৌগলিকভাবেও সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। দেশের আর্থসামাজিক খাতে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এগুলো নিয়ামক ভূমিকা পালন করছে।
বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, গত কয়েক বছরে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের মধ্যে থাকলেও বাংলাদেশের রয়েছে গড়ে ৬ শতাংশে।
