কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় বাবার হাতে তিন বছরের শিশু পুত্র এমরান খুন হয়েছে। উপজেলার পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়নের জুনাইল গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে। শনিবার বিকেলে বাড়ির একটি পরিত্যক্ত ঘর থেকে মাটি চাপা অবস্থায় শিশুটির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ শিশুটির বাবা আবুল কাশেমকে (২৬) আটক করেছে।
পুলিশ জানায়, আবুল কাশেম পেশায় একজন রিকশাচালক। সে প্রায়ই মাদকাসক্ত থাকতো এবং স্ত্রীকে মারধোর করতো। স্বামীর অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে কিছুদিন আগে তার স্ত্রী পারভীন আক্তার এমরানকে কুমড়ি গ্রামে তার নানার বাড়িতে রেখে দেড় বছরের শিশুকন্যাকে নিয়ে কাজের সন্ধানে ঢাকায় চলে যায়। গত বৃহস্পতিবার বিকালে আবুল কাশেম শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে ঢাকায় মায়ের কাছে পৌঁছে দেয়ার কথা বলে ছেলে এমরানকে নিয়ে আসে। পরে ওই রাতেই আবুল কাশেম কাঁচি দিয়ে এমরান জবাই করে লাশ বাড়ির একটি পরিত্যক্ত ঘরে পুঁতে রাখে। এদিকে এমরানের মা বাড়িতে তার শ্বশুর সুলতান মিয়ার কাছে ফোন করে ছেলের খবর জানতে চাইলে তখন জানাজানি হয় যে, এমরানকে ঢাকায় পাঠানো হয়নি। সুলতান মিয়া ছেলের কাছে নাতির কথা জিজ্ঞাসা করলে আবুল কাশেম অসংলগ্ন কথাবার্তা বলতে থাকে। পরে পরিত্যক্ত ঘরের মাটি খুঁড়া অবস্থায় দেখে এবং সেখান থেকে গন্ধ বেরিয়ে আসায় পুলিশকে খবর দেয়া হয়। পুলিশ এসে মাটি খুঁড়ে এমরানের লাশ উদ্ধার এবং আবুল কাশেমেক আটক করে। আবুল কাশেম ছেলেকে হত্যার কথা পুলিশের নিকট স্বীকার করেছে।
পাকুন্দিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মোহাম্মদ শামসুদ্দিন শনিবার রাত সাড়ে সাতটার দিকে জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
