হরিজন কন্যাদের লেখাপড়ার খরচ জোগাচ্ছে চাঁদমনি

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০১৬, ০৫:৫২
 
জলঢাকায় হরিজন পল্লীর কন্যাদের পাশে দাঁড়িয়েছে অনাথ শিশুদের একমাত্র আশ্রয়স্থল চাঁদমনি। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আলহাজ্ব পিজিরুল আলম দুলাল হরিজন পল্লীর কন্যা শিশুদের লেখাপড়ার ব্যয়ভার যোগাচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে।
 
১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠানটি সমাজের ঝড়ে পড়া এতিম কন্যা শিশুদের লেখাপড়ার মাধ্যমে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্য নিয়ে মাত্র ৫ জন অনাথ মেয়েকে নিয়ে উপজেলার বালাগ্রাম ইউনিয়নের চাওড়াডাঙ্গী গ্রামে প্রতিষ্ঠিত করেন ‘চাঁদমনি’ নামে একটি অনাথ আশ্রম। পিজিরুল আলম নিজেই তার নিজস্ব জমিতে গড়ে তোলেন আশ্রমটি। সেই থেকে যাত্রা শুরু। অনেক প্রতিকূলতা থামাতে পারেনি তার এই মহত্ উদ্যোগকে। চাকরি জীবনে উত্তরা ব্যাংকের এজিএম হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। চাকরি জীবনের পুরো সঞ্চয় একে একে খরচ করেছেন নিঃসন্তান এই মানুষটি বাবা-মা হারা অনাথ কন্যা সন্তানদের মাঝে। এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। সমাজের অবহেলিত দরিদ্র কন্যা শিশুরা যাতে বাল্য বিয়ের শিকার না হয় সেজন্য উপজেলার কিছু উদ্যোমী তরুণকে নিয়ে বাল্য বিয়ে প্রতিরোধ কমিটি নামে একটি শক্তিশালী সংগঠন গঠন করেছেন। সফলও হয়েছেন তিনি। যার ফলে গত বছরের ২৫ এপ্রিল রংপুরের সাবেক বিভাগীয় কমিশনার দিলওয়ার বখত স্থানীয় ষ্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে বাল্য বিয়ে মুক্ত উপজেলা ঘোষণা দেন। তিল তিল করে গড়ে উঠা এ আশ্রমে আবাসিকভাবে বাস করছেন ৫৭ জন অনাথ কন্যা। সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা পিজিরুল আলম দুলাল বলেন, ভালো কিছু করার মন-মানসিকতা থাকলে অর্থ কোনো বাধা নয়। নিজের আত্মীয়-স্বজনদের সহযোগিতায় এ পর্যন্ত। ভবিষ্যত্ কি হবে তিনি জানেন না বলে জানান। তার আশ্রম থেকে এখন পর্যন্ত মাধ্যমিক পাস করে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন বেশ কজন অনাথ কন্যা।
 
চাঁদমনির প্রতিষ্ঠাতা পিজিরুল আলম দুলালের একটাই চাওয়া- সমাজের ঝড়ে পড়া কন্যা শিশুরা যাতে বৈষম্যের শিকার না হয়।