সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যাকাণ্ডের বিস্ফোরক মামলায় ১৫ দিনের জামিন পেয়েছেন সিলেট সিটি মেয়র (সাময়িক বরখাস্তকৃত) আরিফুল হক চৌধুরী।
রবিবার দুপুরে হবিগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ আতাব উল্লাহ এ জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। আরিফুল হকের মায়ের অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে আদালতে আসামি পক্ষের আইনজীবী জামিন আবেদন করেন। বিজ্ঞ বিচারক শুনানি শেষে ১৫ দিনের জামিন মঞ্জুর করেন।আরিফুল হকের আইনজীবী অ্যাডভোকটে মঞ্জুর উদ্দিন আহমদ শাহীন জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মায়ের অসুস্থার কথা বলে আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জের বৈদ্যের বাজারে গ্রেনেড হামলায় সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়াসহ ৫জন নিহত হন। এ ঘটনায় জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য আব্দুল মজিদ খান বাদী হয়ে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দু’টি মামলা দায়ের করেন। গত ২২ মার্চ হাইকোর্ট থেকে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলায় ১৫ দিনের জামিন পান মেয়র আরিফুল। বিস্ফোরক মামলা থাকায় মুক্তি পাননি তিনি। তবে আজ বিস্ফোরক মামলায়ও জামিন পাওয়ায় আরিফুলের কারামুক্তিতে এখন আর বাধা নেই।হাইকোর্টে জামিন পাওয়ার বিষয়টি জানিয়েছিলেন সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সদস্য আবদুর রকিব চৌধুরী।
তিনি জানান, গত ২২ মার্চ হাইকোর্টে নিজের এবং মায়ের অসুস্থতায় জামিন চেয়ে আদালতে জামিন আবেদন করেন মেয়র আরিফুল। হাইকোর্ট তাকে ১৫ দিনের জামিন দিয়েছিলেন। বিস্ফোরক মামলা থাকায় কারামুক্ত হন নি তিনি । তাই আজ হবিগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ফের জামিন আবেদন করেন আরিফ। পরে শুনানি শেষে আদালতিএ আদেশ দেন।মেয়র আরিফুলের পক্ষে আদালতে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাডভোকেট মঞ্জুর উদ্দিন আহমদ ফাহিম, সালেহ উদ্দিন আহমদ ও মনসুর উদ্দিন ইকবাল। রাষ্ট্র পক্ষে ছিলেন হবিগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি সিরাজুল হক।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ২১ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সিলেট অঞ্চলের সহকারী পুলিশ সুপার মেহেরুন নেছা পারুল মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জের তৎকালীন মেয়র জি কে গউছ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ ১১ জনের নাম যোগ করে কিবরিয়া হত্যা মামলার সংশোধিত সম্পূরক অভিযোগপত্র জমা দেন। পরদিন আরিফসহ অন্যদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।পরে ওই বছরের ৩০ ডিসেম্বর আত্মসমর্পণ করেন আরিফ। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই আছেন। ফোকাস বাংলা।
