শিবপুরে মুক্তিযোদ্ধাকে কুপিয়ে হত্যা করল দুর্বৃত্তরা

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০১৬, ২১:১২
শিবপুরের বিরাজনগর গ্রামের বহুল পরিচিত প্রতিবাদী কণ্ঠ আব্দুল হাই (৬২) আর সাধারণ মানুষের পক্ষে কথা বলবেন না। দাঁড়াতে পারবেন না নির্যাতিত মানুষের পাশে। দুর্বৃত্তরা এই মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাইকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে। চিরতরে স্তব্ধ করে দিয়েছে তার বলিষ্ঠ কণ্ঠ। গত শনিবার রাতে শিবপুর উপজেলার বিরাজনগর গ্রামের একটি রাস্তায় এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। 
 
জানা গেছে, নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার বিরাজনগর গ্রামের মৃত আব্দুল হাশিমের ছেলে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই ছিলেন একজন আপোষহীন প্রতিবাদী মনুষ। গ্রামের সাধারণ মানুষের সুখে, দুঃখে পাশে থেকে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করতেন। বিচার বঞ্চিত অসহায় মানুষকে বিচার পাইয়ে দিতেন। মানুষ কোন বিপদগ্রস্ত হলেই মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই’র আশ্রয় নিতো। আব্দুল হাই প্রাণপণ চেষ্টা করে তাদেরকে বিপদ মুক্ত করার চেষ্টা করতেন। যার জন্যে সমাজে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যক্তি তার পিছু নেয়। এক পর্যায়ে আব্দুল হাইয়ের কোন দুর্বলতা না পেয়ে জাকির নামে তার এক সৎ ভাইকে আব্দুল হাই’র বিরুদ্ধে উষ্কে দেয়। সৎ ভাই জাকির তার উপর কয়েকবার হামলা চালায়। মিথ্যা মামলা দায়ের করে। 
 
গত শনিবার রাত সাড়ে ৯ টায় আব্দুল হাই বিরাজনগর বাজার থেকে ফেরার পথে বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছলে দুর্বৃত্তরা তাকে মারাত্মকভাবে কুপিয়ে জখম করে। খবর পেয়ে তার ছোট ভাই হারিছ মিয়া ও তার দুই ছেলেসহ এলাকার লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে রক্তাক্ত আহত অবস্থায় আব্দুল হাইকে উদ্ধার করে শিবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 
 
খবর পেয়ে শিবপুর থানার ওসি খোন্দকার ইমাম হোসেন রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। 
 
রবিবার দুপুরে নরসিংদী সদর হাসপাতালে আব্দুল হাইয়ের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পারিবারের লোকজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।  এ ব্যাপারে তার বড় ছেলে রিমন মিয়া বাদী হয়ে ৩ জনের নামে এবং ৪/৫ জনকে বেনামে আসামি করে শিবপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে।