কর ফাঁকি নিয়মে পরিণত হয়েছে: ড. ওয়াহিদউদ্দিন

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০১৬, ২১:২২
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, দেশের করের আইনে যেমন ফাঁক ফোকর আছে তেমনি অস্পষ্টতা এবং দুর্বোধ্যতা রয়েছে। এজন্য আইন সহজ সরল করা প্রয়োজন। একইসঙ্গে কোন কর প্রস্তাব আসলে বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত। রাজস্ব সংগ্রহ অভিযান জোরদার করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে। সবাইকে করের আওতায় আনতে পারলে কম রেটে কর দিলেও বড় অঙ্কের রাজস্ব পাওয়া যাবে বলে তিনি মনে করেন।
 
রবিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে সঙ্গে এক প্রাক-বাজেট আলোচনায়  অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট আব্দুল মাতলুব আহমাদ। এ সময় বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস), পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই), আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানসহ (পিডবি¬উসি) বিভিন্ন পর্যায়ের অর্থনীতিবিদরা আলোচনায় অংশ নেন।
 
ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, রাজস্ব খাতে কর ফাঁকি চরম পর্যায়ে ঠেকেছে। কর ফাঁকি এতো বেশি যে কর্মকর্তারা সৎ করদাতাদেরও পুরোপুরি বিশ্বাস করেন না। সন্দেহ করে এমন করদাতাদেরও নানা ধরণের হয়রানি করা হয়। এ কারণে পাঁচ বছরেও কোন করদাতাকে কর প্রদানের সনদ দেয়া হয় না। আবার কর ফাঁকি উদঘাটন করলে করদাতারা অসন্তুষ্ট হন। সব মিলে কর ফাঁকি নিয়মে পরিণত হয়েছে। কর ফাঁকির সঙ্গে আছে দুর্নীতি। দেশে কর ফাঁকি এতই বিস্তৃত, এখানে কোনো কর কর্মকর্তা সৎভাবে কাজ করলে বলা হয় বড় বড় কর ফাঁকি ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে গড়ে ২ শতাংশও কর দেয় না। 
 
সবাই মিলে কর দিলে এর থেকে কম রেটেও অনেক বেশি কর আদায় করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
 
এফবিসিসিআই সভাপতি আব্দুল মাতলুব আহমেদ বলেন, ব্যবসায়ীরা সবাই ভ্যাট দিতে চাই। কিন্তু সমস্যা হলো এটি (ভ্যাট) খুব জটিল করে রাখা হয়ছে।
 
এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান, এ বছর লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকার অধিক। প্রতি ঘণ্টা ২৮ থেকে ২৯ কোটি টাকা আদায় করি। প্রতি মাসে মাসে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার কর আদায় করা হয়। করদাতাকে আমরা সব সময় সম্মানের চোখে দেখি।
মুক্ত আলোচনায় বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট-এর (পিআরআই) চেয়ারম্যান ড. জায়েদি সাত্তার বলেন, আমদানি করা কাঁচামালে অধিক কর আরোপ করার জন্য উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন বলেন, কর্পোরেট করের বিন্যাস ঠিকভাবে করা হয়নি। লভ্যাংশের ক্ষেত্রে যেভাবে কর ছাড় দেয়া হয়েছে, তা কোনোভাবেই সঠিক হয়নি। ড. এনামুল হক বলেন, বাংলাদেশে ১১ লাখ লোক কর দেয়। এ সংখ্যা বাড়াতে হবে।