নিহতদের বেশিরভাগই মুসলিম

খ্রিস্টানদের লক্ষ্য করে লাহোরে হামলা করা হয়েছে: তালেবান

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০১৬, ১৪:১২
পাকিস্তানের লাহোরের একটি পার্কে খ্রিস্টানদের লক্ষ্য করে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানো হয়েছে বলে স্বীকার করেছে তালেবান। গতকাল রোববার আত্মঘাতী এ বোমা বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২। নিহতদের অর্ধেকই হল শিশু। 
 
খ্রিষ্টানদের ইস্টার সানডে উৎসব উদযাপনের সময় নগরীর ভিড়ে ঠাসা গুলশান-ই-ইকবাল পার্কে শিশুদের খেলার স্থানের কাছে ওই বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে তিন শতাধিক লোক আহতও হয়েছে। তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ভেঙে গঠিত হওয়া কট্টরপন্থী জামাত-উল-আহরার’র মুখপাত্র ইহানসুল্লাহ ইহসান অজ্ঞাতস্থান থেকে টেলিফোনে বার্তা সংস্থা এএফপি-কে বলেন, লাহোরে হামলা আমরাই করেছি। খ্রিস্টানরাই ছিল আমাদের টার্গেট।
 
তিনি বলেন, তাদের গ্রুপ আরো হামলা চালাবে। তিনি সরকারি ও সামরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনার পাশাপাশি স্কুল ও কলেজগুলোকে টার্গেট করার অঙ্গীকার করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের পর শিশুরা চিৎকার করে কাঁদছিল। লোকজন আহতদের নিয়ে দৌঁড়াদৌঁড়ি করছিল। অনেকে তাদের প্রিয়জনদের খুঁজছিল।
 
IMG0
 
জনৈক আরিফ গিল (৫৩) বলেন,  ইস্টারের ছুটি কাটাতে আমরা পার্কে গিয়েছিলাম। হঠাৎ সেখানে একটি বিস্ফোরণ ঘটে। আমি একটি আগুনের কুণ্ডলী দেখলাম। আমার পরিবারের চার থেকে ছয় জন আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে দুই জনের অবস্থা গুরুতর। উদ্ধার কর্মীদের মুখপাত্র দীবা শাহবাজ বলেন, সোমবার প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৭২ জনে দাঁড়িয়েছে। তাদের মধ্যে ২৯ জনই শিশু। ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা হায়দার আশরাফ প্রাণহানির সংখ্যা নিশ্চিত করে বলেন, নিহতদের বেশিরভাগই মুসলিম।
 
লাহোরের শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ উসমান বলেন, বিস্ফোরণে ২৩৩ জন আহত হয়েছে। তবে রোববার উদ্ধারকারী কর্মকর্তারা আহতের সংখ্যা তিন শতাধিক বলে উল্লেখ করেছিলেন। কমিশনার আব্দুল্লাহ সামবাল বলেন, স্কুল ও অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠান খোলা রয়েছে। তবে পাঞ্জাব প্রদেশে তিন দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে। লাহোর হলো পাঞ্জাবের রাজধানী। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ নিরপরাধ লোকজনের প্রাণহানিতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
 
IMG1
 
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী টেলিফোনে নওয়াজকে বলেন, এই দুঃখজনক সময়ে ভারতের জনগণ পাকিস্তানের পাশে রয়েছে।  রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে এ কথা বলা হয়েছে।
 
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর প্রধান জেনারেল রাহিল শরীফ দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার অঙ্গীকার করেন। যুক্তরাষ্ট্র এ ঘটনাকে ‘কাপুরুষোচিত’ বলে উল্লেখ করেছে। পাকিস্তানের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মালালা ইউসুফজাই এক টুইটার বার্তায় বলেন, পাকিস্তান ও বিশ্বকে এক হতে হবে। প্রতিটা জীবন গুরুত্বপূর্ণ এবং অবশ্যই তাদের জীবনের প্রতি সম্মান ও রক্ষা করতে হবে। ভ্যাটিকান এ হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটা খ্রিস্টান সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে উন্মত্ত সহিংসতা। জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি-মুন ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের রক্ষা করতে ইসলামাবাদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। এএফপি।