হারিয়ে যাচ্ছে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের কাঁসা শিল্প

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০১৬, ০১:৫৩
প্লাস্টিক ও মেলামাইনের ছোঁয়ায় হারিয়ে যেতে বসছে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলের কাঁসা শিল্প। একটা সময় ছিল যখন বিয়ের অনুষ্ঠান, জন্মদিনের উপহার ও অতিথি আপ্যায়নে কাঁসা পিতলের তৈরি উপহার সামগ্রীর কোনো জুড়ি ছিল না। তখন জামাই ও আত্মীয়-স্বজনদের কাঁসার পাত্রে খেতে না দিলে অপমান করা হয়েছে বলে মনে করা হতো। কিন্তু কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে কাঁসা-পিতলের তৈরি সামগ্রীর ব্যবহার। তার জায়গায় স্থান করে নিয়েছে মেলামাইনের সামগ্রী। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শত শত বছর ধরে গ্রাম-বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে থালা-বাসন, কলস, জগ, বদনা ও গৃহস্থালির নানা কাজে ব্যবহার হতো কাঁসা-পিতলের সামগ্রী। এমন কি জমিদাররাও ব্যবহার করতেন এ ধরনের তৈজসপত্র। বিভিন্ন ধরনের সৌখিন সামগ্রী হিসেবে মানুষের ঘরে শোভা পেতো কাঁসা পিতলের তৈরি মনোমুগ্ধকর সামগ্রী। এসবের কদরও ছিল অনেক বেশি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাল্টে গেছে উপহার সামগ্রীর ধরন। এখন আর কাঁসা-পিতলের সামগ্রী উপহারের তালিকায় থাকে না। থাকে মেলামাইন, এলুমিনিয়াম, কাঁচের তৈরি এবং প্লাস্টিক সামগ্রীর জিনিসপত্র। সহজলভ্যতা ও দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় এবং বিভিন্ন রঙের বাহারী ডিজাইনে এসবের দিকেই ঝুঁকেছে মানুষ। অথচ কয়েক বছর আগেও কাঁসা-পিতলের প্লে­ট, জগ, বদনাসহ নানা সামগ্রী প্রতিনিয়ত ব্যবহার করতো মানুষ।
 
রাজশাহীর সাহেব বাজারের বিভিন্ন কাঁসা-পিতলের ব্যবসায়ীরা জানান, কালের বিবর্তনে কাঁসা-পিতলের ব্যবহার কমে যাওয়ায় ক্ষতির বোঝা কাঁধে নিয়েও এখনো কেউ কেউ এ ব্যবসা ধরে রেখেছেন। বংশের প্রধান পেশা হওয়ায় তাদের কেউই এ ব্যবসা ছেড়ে যেতে পারছেন না। তবে অনিশ্চয়তার মুখে চালিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসা। আবার অনেকে পেশা বদলালেও সেখানে নিজেকে মানাতে পারছেন না। চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের শান্তির মোড় কাঁসা-পিতলের তৈজসপত্র ব্যবসায়ী আব্দুল হামিদ বলেন, আগের মতো এ ব্যবসা আর নেই। আগে যেখানে মানুষ নিজেদের প্রয়োজনে এবং অন্যকে উপহার দিতে কাঁসা-পিতলের ব্যবহার করতো, এখন তা একেবারেই কমে গেছে। যেখানে অর্ডার নিয়ে কাঁসা-পিতলের ব্যবসা পরিচালিত হতো এখন ক্রেতা সংখ্যা এতই কমেছে যে জিনিস প্রস্তুত করা থাকলেও কেউ নিতে আসে না।
 
অপর ব্যবসায়ী মাসুদ রানা বলেন, আগে রাজশাহীর বেশ কিছু স্থানে কাঁসা-পিতলের জিনিস তৈরির কারখানা ছিল। কিন্তু এখন রাজশাহীতে আর কারখানা দেখা যায় না। যার কারণে এখন চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে কাঁসা পণ্য কিনে এনে বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে খরচ বেশি পড়ছে আবার বিক্রি না হওয়ায় নানাভাবে ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।