টাকা চাওয়ায় শিশু ইসমাইলকে হত্যা করেছেন তার ভাবি শাপলা বেগম। মঙ্গলবার তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এমন তথ্য দিয়েছেন। দুপুরে হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত সুলতানার আদালতে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
জবানবন্দিতে শাপলা বেগম জানান, ইসমাইল প্রায়ই তার কাছে টাকা চাইত। না দিলেই অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করত। ঘটনার দিন সকাল নয়টায় বাসায় কেউ ছিল না। এ সময় ইসমাইল ভাবির কাছে টাকা চেয়ে না পেয়ে গালিগালাজ করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শাপলা বেগম তার গলা চেপে ধরেন। এক পর্যায়ে শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে সে মারা যায়। তাত্ক্ষণিক দিশেহারা হয়ে শাপলা বেগম দেবর ইসমাইলকে ঘরের ভেতর ধানের গোলায় লুকিয়ে রাখেন। উদ্দেশ্য ছিল পরে সুবিধামতো সময়ে লাশ পুকুরে ফেলে দেবেন।
বেলা দেড়টায় পুলিশ সুপারের কার্যলয়ে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জয়দেব কুমার ভদ্র জানান, নিহত শিশু ইসমাইলের বাবা রজব আলী ২৬ মার্চ সন্ধ্যায় সন্তান নিখোঁজের বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়রি করেন। ২৮ মার্চ বাড়ির ধানের গোলার নিচ থেকে লাশ উদ্ধারের করা হয়। এরপর ইসমাইলের বাবা রজব আলী, মা রহিমা বেগম, ভাই জুয়েল মিয়া ও তার স্ত্রী শাপলা বেগম এবং বোন রুমা আক্তারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে শাপলা হত্যাকান্ডের কথা স্বীকার করেন।
ইসমাইলের বাবার করা সাধারণ ডায়রির বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, মাধবপুর উপজেলা সদরের দক্ষিণ মাধবপুর এলাকার বাসিন্দা রজব আলীর ছেলে শিশু ইসমাইল ২৬ মার্চ সকালে বাবার বাছ থেকে ২০ টাকা নিয়ে বাসা থেকে বের হয়। এরপর থেকে তার খোঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।
