‍'ক্যাম্পের বাইরে অবৈধভাবে বসবাসরত অবাঙালিদের উচ্ছেদে বাধা নেই'

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০১৬, ২০:৪২
দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত ক্যাম্পগুলোর বাইরে অবৈধভাবে বসবাসরত উর্দু ভাষী অবাঙালিদের উচ্ছেদে রায় দিয়েছে হাইকোর্ট। তবে ক্যাম্পে বসবাসরতদের মধ্যে যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র রয়েছে তাদেরকে পর্যায়ক্রমে পুনর্বাসন করতে বলা হয়েছে। এ সংক্রান্ত পৃথক নয়টি রিট আবেদন খারিজ করে দিয়ে বিচারপতি মো. মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি জেবিএম হাসানের ডিভিশন বেঞ্চ মঙ্গলবার এই রায় দেন। 
 
জানা গেছে, ক্যাম্পে বসবাসরত উর্দুভাষী অবাঙালিরা উচ্ছেদের আশংকা থেকে ২০০২ সালে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করেন উর্দু স্পিকিং পিপলস ইউথ রিহাবিলিটেশন মুভমেন্ট (ইউএসপিওয়াইআরএম) এর সভাপতি মো. সাদাকাত খান (ফাক্কু) ও শহিদ আলী বাবলু। 
 
আবেদনে বলা হয়, দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্যাম্পে অমানবিক জীবনযাপন করে আসছেন প্রায় ৪ লক্ষ উর্দুভাষী। ১৯৯৫ সাল থেকে এসব উর্দুভাষীদেরকে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র শুরু হয়। ২০০২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকা সিটি করপোরেশন মিরপুরের পল্লবীতে প্রায় ৩৯টি ছোট-বড় ক্যাম্প বিনা নোটিশে উচ্ছেদের কার্যক্রম গ্রহন করে। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়। তখন হাইকোর্ট ক্যাম্পে বসবাসরতদের পুনর্বাসন বা মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উচ্ছেদ কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। পরবর্তীকালে ক্যাম্পে বসবাসরতদের উচ্ছেদ নিয়ে আরো ৮টি মামলা হয়। এসব রিট মামলার রুলের উপর একত্রে হাইকোর্টে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে রিটকারীগণের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট এএফএম হাসান আরিফ, ব্যারিস্টার সারা হোসেন, অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান খান শুনানি করেন। 
 
রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মাহমুদা পারভীন পপি। শুনানি শেষে সোমবার রায় ঘোষণা শুরু করে হাইকোর্ট। মঙ্গলবার পর্যবেক্ষণসহকারে রিট আবেদনগুলো খারিজ করে রায় দেয় আদালত।
 
এ প্রসঙ্গে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মাহমুদা পারভীন পপি বলেন, আদালত ৯টি রিটের ওপর জারিকৃত রুল কয়েকটি পর্যবেক্ষণ সহকারে খারিজ করে দিয়েছে। ফলে আনঅথরাইজড বিহারীদের উচ্ছেদে কোন আইনগত বাধা নেই।
 
হাফিজুর রহমান খান বলেন, মিরপুরের পল্লবীর বিহারী, মোহাম্মদপুরের জেনেভা, নীলফামারীর সৈয়দপুরের বিহারী ক্যাম্পের বাইরে সরকারী জায়গায় অবৈধভাবে যেসব অবাঙালি বসবাস করছেন তাদের উচ্ছেদে বাধা নেই। তবে যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র রয়েছে সরকারের নীতি অনুযায়ী তাদেরকে পর্যায়ক্রমে পুন:র্বাসন করতে বলা হয়েছে।