চিংড়ি পোনা আহরণকালে নারীকে ‍তুলে নেয়ার অভিযোগ

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০১৬, ১৫:৪৪
 
বঙ্গোপসাগরের মোহনায় পায়রা নদীতে রেনু পোনা আহরণ করতে গিয়ে কোস্টগার্ড সদস্যদের নির্যাতনে তিন নারীসহ চারজন আহত হয়েছে। এছাড়া আসমা বেগম নামে আরেক নারী তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
 
আহতরা হলেন-কদভানু, জবেদা বেগম, ফুলভানু ও রাসেল।
 
নিখোঁজ আসমার পরিবারের দাবি, কোস্টগার্ড সদস্যরা তাদের ট্রলারে তাকে উঠিয়ে নিয়ে গেছে। তবে কোস্টগার্ড সদস্যরা উঠিয়ে নিয়ে যাবার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
 
প্রত্যক্ষদর্শী সফিকুল ইসলাম রুবেল জানান, বুধবার বেলা ১১টার দিকে তালতলী উপজেলার তেতুলবাড়িয়া এলাকায় পায়রা নদীতে নারী ও শিশুরা কারেন্ট জালের মাধ্যমে চিংড়ির পোনা শিকার করছিল। হঠাৎ করে ফকিরহাট ক্যাম্পের কোস্টগার্ড সদস্যরা সেখানে এসে নারী-শিশুদের বেধড়ক পিটুিন দিয়ে কারেন্ট জাল ছিনিয়ে নিতে থাকে। এসময় তাদের পিটুনিতে কদভানু ও তার ছেলে রাসেল নদীর পাড়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এলাকার লোকজন একত্রিত হয়ে ডাক চিত্কার শুরু করলে বিধবা জবেদা বেগম ও তার বোনের মেয়ে আসমাকে কোস্টগার্ড সদস্যরা তাদের ট্রলারে তুলে দ্রুত চলে যায়। তেতুলবাড়িয়া থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে নিদ্রার চর থেকে জবেদা বেগমকে উদ্ধার করা হলেও রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আসমার কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি।
 
আহত জবেদা বেগম জানান, কোস্টগার্ড সদস্যরা তাকে ট্রলারে ওঠানোর পরে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলেন। জ্ঞান ফেরার পরে তাকে নিদ্রার চরে নামিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে তার বোনের মেয়ে আসমা বেগম কোথায় আছেন, তা তিনি বলতে পারছেন না।
 
কোস্টগার্ড ফকিরহাট ক্যাম্পের স্টেশন কমান্ডার শামীম জানান, তারা অবৈধ কারেন্ট জাল উদ্ধার করতে গেলে নারী ও শিশুরা তাদের আক্রমণ করে। এ সময় তারা আত্মরক্ষার্থে লাঠি ও বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেছেন।
 
তিনি আরো জানান, জবেদা বেগম জাল ফেরত নেয়ার জন্য তাদের ট্রলারে উঠে গিয়েছিলেন। পরে তাকে নিদ্রার চরে নামিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে আসমা বেগমকে তাদের ট্রলারে নিয়ে যাবার কথা অস্বীকার করছেন।
 
নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ সদস্য সেলিম মিয়া জানান, তিনি নিজের চোখে দুই নারীকে কোস্টগার্ডের ট্রলারে উঠিয়ে নিতে দেখেছেন।
 
নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সেলিম মাতুব্বর জানান, তিনি কদভানু ও জবেদা বেগমকে আহত অবস্থায় প্রথমে তালতলী থানা ও পরে তালতলী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এসেছেন। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
 
তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবুল আক্তার জানান, থানায় যাবার পরে ঐ দুইনারীকে চিকিত্সার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে থানায় কোন মামলা হয়নি।