বন্ড সুবিধায় ৩৪২ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০১৬, ১৯:৩৩
বন্ড সুবিধায় আমদানি করা কাঁচামাল খোলা বাজারে বিক্রি করে সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেয়া হচ্ছে। গত জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আট মাসে রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ এক্সেসরিজ, কাগজ ও কার্টন আমদানিকারক ১৫টি প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করেছে। এসব প্রতিষ্ঠান ৭৬৩ কোটি টাকার পণ্য আমদানি করে তা খোলা বাজারে বিক্রি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর হিসাব করে দেখেছে, এতে প্রায় ৩৪২ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দেয়া হয়েছে। এর আগে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে এ ধরণের পণ্যের ৩২ কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকি উৎঘাটন করেছিল শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ। 
 
শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান ইত্তেফাককে বলেন, ১৫টি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে দেখা গেছে, তারা বন্ড সুবিধায় আনা পণ্য খোলা বাজারে বিক্রি করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। 
 
তিনি জানান, আগের তুলনায় এনবিআর এখন অনেক কঠোরভাবে এসব বিষয়ে নজর দিচ্ছে। ফলে খোলা বাজারেও দামে এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। 
 
রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান পণ্য তৈরির জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ পেয়ে থাকে। তবে শর্ত হলো, উৎপাদিত পণ্য শতভাগ রপ্তানি করতে হবে। এ জন্য আমদানি করা এসব কাঁচামাল নির্দিষ্ট গুদামে (বন্ডেড ওয়্যারহাউজ) রাখতে হয়। একই পণ্য যারা দেশীয় বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে আমদানি করে, তারা নির্দিষ্ট পরিমাণে শুল্ক-কর পরিশোধ করতে হয়। কিন্তু বন্ড সুবিধায় আমদানি করা পণ্য যদি দেশের খোলা বাজারে বিক্রি করা হয়, সেক্ষেত্রে শুল্ক-কর পরিশোধ করা আমদানিকারকরা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়েন। দীর্ঘদিন ধরেই এ অভিযোগ চলে আসলেও এটি কমানো যাচ্ছিল না। সম্প্রতি এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান বলেন, প্রতি বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে প্রতি বছর প্রায় ৫৮ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেয়া হচ্ছে।
 
মইনুল খান বলেন, বন্ডের পণ্য খোলা বাজারে বিক্রি ঠেকাতে বিভিন্ন কারখানা ও দোকানে হানা দিচ্ছেন শুল্ক গোয়েন্দা দলের কর্মকর্তারা। এ কারনে বাজারে বন্ডের পণ্য অনেক কমে গেছে। আগে ডুপ্লেক্স বোর্ড ১১শ’ টাকায় পাওয়া গেলেও এখন তা ১৭শ’ টাকা হয়ে গেছে। তিনি বলেন, অভিযানের পাশাপাশি শুল্ক করের নীতিতেও পরিবর্তন আনা দরকার। যাতে খোলা বাজারে বিক্রি নিরুৎসাহিত হয়।