শিলাইদহের কুঠিবাড়ি থেকে দুটি তরবারি চুরি

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০১৬, ২২:০৬
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত কুষ্টিয়ার শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে রক্ষিত দুটি তরবারি চুরি হয়েছে।
 
এ ঘটনায় কুঠিবাড়ির কাস্টোডিয়ান মখলেচুর রহমান কুমারখালী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। তরবারি চুরির ঘটনায় সুনির্দিষ্ট দিন ও সময় উল্লেখ না করে গত বুধবার বিকাল পাঁচটার পর থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টার মধ্যে কুঠিবাড়িতে সংঘটিত চুরির ঘটনায় দুটি তরবারি খোয়া গেছে বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়।  
 
কুঠিবাড়ির কাস্টোডিয়ান মখলেচুর রহমান জানান, গত বুধবার বিকাল পাঁচটার দিকে কুঠিবাড়ির সব কক্ষ বন্ধ ও প্রধান ফটক সিলগালা করে তিনি সরকারি কাজে খুলনায় যান। এ সময় কুঠিবাড়ির লাইব্রেরিয়ান কাম কাস্টোডিয়ান বাকী বিল্লাহ দায়িত্বে ছিলেন। পরের দিন বৃহস্পতিবার সকালে তিনি জানতে পারেন কুঠিবাড়ির দ্বিতীয় তলার ২০১ নম্বর কক্ষের আলমারির তালা ভেঙ্গে চোরেরা পাঁচটি তরবারির মধ্যে দুটি চুরি করে নিয়ে যায়। চুরির ঘটনাটি জানার পর পর তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কুমারখালী থানার ওসিকে অবহিত করেন। পরে তিনি খুলনা থেকে শিলাইদহে ফিরে এসে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানান। তবে  সুরক্ষিত ও প্রাচীরবেষ্টিত কুঠিবাড়ির আলমারির তালা ভেঙ্গে তরবারি চুরির ঘটনায় জনমনে নানা প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে। 
 
এদিকে তরবারি চুরি ঘটনায় কুঠিবাড়ি চত্বরে আনসার ক্যাম্পের দায়িত্বরত সদস্য এবং কুঠিবাড়ি রক্ষণাবেক্ষেণে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদাসীনতা ও যোগসাজশ রয়েছে বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে। কুঠিবাড়ির নিরাপত্তায় স্থায়ী আনসার ক্যাম্প ও  কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে কিভাবে ওই তরবারি দুটি খোয়া গেছে এ ব্যাপারে কাস্টোডিয়ান মখলেচুর রহমান কোন সঠিক জবাব দিতে পারেননি। কুঠিবাড়ির নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় কুঠিবাড়ি সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকলেও তরবারি চুরির সময় সিসি ক্যামেরা বন্ধ থাকায় চুরির সঙ্গে কুঠিবাড়ির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কারো যোগসাজশ রয়েছে বলে পুলিশ সন্দেহ করছে।
 
এ ছাড়া কুঠিবাড়ির লাইব্রেরিয়ান কাম কাস্টোডিয়ান বাকী বিল্লাহর মোবাইল ফোনে বার বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
 
কুমারখালী থানার ওসি জিয়াউর রহমান (পিপিএম) কুঠিবাড়িতে তরবারি চুরির সত্যতা স্বীকার করে জানান, এ ঘটনায় থানায় জিডি হয়েছে। তরবাবি উদ্ধার ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।