স্মার্টফোন আসক্তি থেকে বাঁচার উপায়

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০১৬, ১১:১৪
আধুনিক জীবনের অন্যতম অনুষঙ্গ এখন স্মার্টফোন। আর স্মার্টফোনে আসক্তি কম বেশি সব ব্যবহারকারীদের রয়েছে। অনেক ব্যবহারকারীরা শোবার আগে শেষ কাজ হিসেবে স্মার্টফোন ব্যবহার করে থাকেন। অনেকে আবার ঘুম থেকে উঠেই সবার আগে ফোন চেক করেন।
 
শুধু তাই নয়, অনেকে রাতে কোন কারণে ঘুম থেকে উঠলেও ফোন ব্যবহার করে থাকেন। অফিসিয়াল গুরুত্বপূর্ণ মিটিং বা সামাজিক কোন অনুষ্ঠানে বেশিরভাগ স্মার্টফোন ব্যবহারকারী কাজ বা আড্ডার পরিবর্তে স্মার্টফোনে সোশ্যাল সাইট বা ইমেইল চেক করে থাকেন অনেকে।
 
অনেকে তো আবার রাস্তা পার হওয়ার সময় বা টয়লেটে গিয়েও কিছুতেই চোখ সরাতে পারেন না মোবাইলের স্ক্রিন থেকে!
 
এই আসক্তি ব্যবহারকারীদের নানাভাবে ক্ষতি করে। অতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহারে ব্যবহারকারীর আঙুল ব্যথা হওয়া ছাড়াও হাতের গঠনে পাল্টে যেতে পারে। এছাড়াও কোনো কিছু চিমটি দিয়ে ধরার সামর্থ্য ও অ্যানলার্জড মেডিয়ান নার্ভ নামের হাতের অসুখও হতে পারে।
 
আপনি কি মোবাইলে আসক্ত? জেনে নিন এই নেশা কাটানোর কয়েকটি উপায়—
 
১. কাজ থেকে বাড়িতে ফেরার পরে মোবাইলটিকে সাইলেন্ট করে দিন। খুব প্রয়োজন না থাকলে ফোনটিকে কোনো ড্রয়ার বা আলমারিতে রেখে দিন। আধ ঘন্টা বা এক ঘন্টা পরে ফোন বার করে দেখুন ইতোমধ্যে কোনো জরুরি ফোন বা মেসেজ এসেছে কি না। এই নিয়ে অযথা দুশ্চিন্তা না করে কল ব্যাক করুন বা মেসেজের রিপ্লাই দিন।
 
২. অফিসে থাকাকালীন টয়লেট যেতে হলে মোবাইলটিকে রেখে যান নিজের ডেস্কে।
 
৩. আপনি যখন রাস্তায়, তখন নিজের চারপাশের পরিবেশের দিকে মনোযোগ দিন। আশপাশের মানুষজনের দিকে তাকান, তাদের পোশাক-আশাক লক্ষ করুন। রাস্তা ষদি ফাঁকা থাকে তাহলে দেখুন আকাশের অবস্থা, বা তাকান গাছপালার দিকে। আর রাস্তা পেরনোর সময়ে অবশ্যই তাকান ট্র্যাফিক সিগনালের দিকে। মোট কথা মোবাইল থেকে মন সরান।
 
৪. গাড়ি চালানোর সময়ে মোবাইলটিকে সাইলেন্ট করে নিজের নজরের বাইরে রেখে দিন। বাসে-ট্রামে থাকাকালীন মোবাইলে গান শোনা, গেম খেলা বা ভিডিও দেখার অভ্যেস ছাড়তে হবে। দরকার হলে সাময়িক ভাবে নেট-অফ করে দিন। বাস-ট্রামের জানলা দিয়ে বাইরের দৃশ্য উপভোগ করার অভ্যেস গড়ে তুলুন।
 
৫. দিনে অন্তত ১০-১৫ মিনিট মেডিটেশন বা অন্য কোনো মেন্টাল রিল্যাক্সেশন এক্সারসাইজের জন্য নির্ধারিত রাখুন। শুধু মোবাইল-নেশা নয়, যেকোনো ক্ষেত্রেই নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করার এটি একটি কার্যকর উপায়।