রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় নিজ দলের নেতা-কর্মীদের হাতে মার খেয়ে হাসপাতালে ভর্তির পর গ্রেফতার হয়েছেন লাল বাহাদুর নামে এক যুবলীগ নেতা।
সোমবার দুপুরে উপজেলা চত্বরে নিজ দলের কর্মীদের হাতে লোহার রড ও হাতুড়ির আঘাতে গুরুতর আহত হওয়ার পর স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নেয়া হলে বাঘা থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, থানা যুবলীগের সহ-সভাপতি লাল বাহাদুরের সঙ্গে দলীয় আধিপত্ত বিস্তারকে কেন্দ্র করে অপর যুবলীগ নেতা শাহিনুর রহমান পিন্টুর মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। সেই দ্বন্দ্বের জের ধরে সোমবার দুপুর একটার দিকে উপজেলার মনিগ্রাম বাজার থেকে লাল বাহাদুর উপজেলা পরিষদের সামনে পৌঁছালে তাকে মারপিট করে গুরতর আহত করা হয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছাত্রলীগ কর্মী রুহুল আমিন ও যুবলীগ কর্মী রানা জানান, দুপুরে উপজেলার আম চত্বরে বসে ছিলেন থানা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তছিকুল ইসলাম ও বর্তমান থানা যুবলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর রহমান পিন্টুসহ আরো অনেকে। এ সময় লালবাহাদুর একটি মোটরসাইকেলে করে সেখানে পৌঁছা মাত্র পিন্টু সমর্থিত যুবলীগ কর্মী শাহিন আলম, তোহিদ, সুজন, জীবন ও জাহিদ আকষ্মিকভাবে তাকে লোহার রড ও হাতড়ি দিয়ে মারপিট শুরু করে। তাদের আঘাতে লাল বাহাদুর মাটিতে পড়ে গেলে ঘটনাস্থল থেকে সটকে যায় তারা। যার সত্যতা স্বীকার করেন থানা যুবলীগের সহ-সভাপতি লাল বাহাদুর ।
তবে যুবলীগ নেতা শাহিনুর রহমান পিন্টু দাবি করেছেন, ঘটনার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তাকে কে বা কারা মারপিট করেছে সে সম্পর্কেও তিনি কিছুই জানেন না।
এদিকে বাঘা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কর্তব্যরত চিকিৎসক (টিএইসএ) সিরাজুল ইসলাম জানান, লাল বাহাদুরের অবস্থা আশংকাজনক। তার শরীরে অসংখ্য আঘাতের দাগ রয়েছে। ।
বাঘা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মাহামুদ জানান, যুবলীগ নেতা লাল বাহাদুরের নামে থানায় বেশ কয়েকটি অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে সম্প্রতি ক্লাব দখলের ঘটনায় দুই পক্ষের সংঘাতকে কেন্দ্র করে তার নামে ওয়ারেন্ট রয়েছে। এ কারণে হাসপাতালে ভর্তির পর তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
