বেসরকারি এয়ারলাইন্সের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ

বরিশাল রুটে ‘বিমান’-এর ডানা গোটানোর পাঁয়তারা

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০১৬, ১২:০৯
লাভজনক রুট হিসাবে একের পর এক বেসরকারি কোম্পানির বিমান যখন ডানা মেলছে বরিশালের আকাশে তখন ফের লোকসানের অজুহাতে জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্সের সার্ভিস গুটিয়ে নেয়ার পাঁয়তারা শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে যাত্রী সংকটের অজুহাত তুলে বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্স এ রুটে ফ্লাইট বাতিল করতে শুরু করেছে।
 
এর আগে একই অজুহাতে বিমান সার্ভিস গুটিয়ে নেয়ার পর টানা ৯ বছর এ রুটে ‘বিমান’ চলাচল বন্ধ ছিল। গত বছর ৮ এপ্রিল পুনরায় সার্ভিস চালু হওয়ার পর ‘বিমানে’র পাশাপাশি একের পর এক বরিশালের আকাশে ডানা মেলতে শুরু করে বেসরকারি সংস্থার উড়োজাহাজ। সর্বশেষ ২ এপ্রিল এ রুটে উড়তে শুরু করেছে নভো এয়ার। আর নভো এয়ার উদ্বোধনের মাত্র তিনদিন পূর্বে ২৯ মার্চ এ রুটে যাত্রী সংকটের কারণ দেখিয়ে ফ্লাইট বাতিল করে বাংলাদেশ বিমান।
 
প্রশ্ন উঠেছে বেসরকারি বিমান সংস্থা যখন যাত্রীদের চাহিদা পূরণে একের পর এক ফ্লাইট বৃদ্ধি করছে এবং লাভ করে টিকে আছে তখন বাংলাদেশ বিমান কেন লোকসান দিচ্ছে। যাত্রীদের অভিযোগ, পূর্বের ন্যায় কৌশলে লোকসানি রুট হিসাবে দাঁড় করিয়ে ‘বিমান’ সার্ভিস গুটিয়ে নিতে সংস্থার অভ্যন্তরের কতিপয় কর্মকর্তা অপচেষ্টায় লিপ্ত। তারা রাজধানী ঢাকা ছেড়ে কিছুতেই বরিশালে থাকতে চান না। এ ছাড়া রয়েছে  বেসরকারি বিমান সংস্থার কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা আদায়ের অভিযোগ। আর এসব কারণেই বাংলাদেশ বিমান ‘লোকসান গুনতে শুরু করেছে’ এ রুটে। 
 
বিমানের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাদের সার্ভিস নিয়ে নেই কোনো প্রচারণা। বিমানবন্দর থেকে নগরী পর্যন্ত বিমানের যাত্রী পরিবহনের জন্য শুরু থেকেই একটি গাড়ির দাবি জানিয়ে আসছেন যাত্রীরা। বিমান মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন নিজেও যাত্রী পরিবহনের জন্য গাড়ি ভাড়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু অদ্যাবধি গাড়ির ব্যবস্থা হয়নি। টানা এক বছর বিমান সপ্তাহে দু’দিন মাত্র যাত্রী পরিবহন করে। গ্রীষ্মকালীন সিডিউলে সপ্তাহে দু’দিনের পরিবর্তে একদিন সার্ভিস বাড়িয়ে তিন দিন করা হয়। রবিবারের সিডিউল ঠিক রেখে বুধবারের ফ্লাইট বৃহস্পতিবার এবং বাড়তি ফ্লাইট মঙ্গলবার নির্ধারণ করা হয়। 
 
সপ্তাহে তৃতীয় দিনের জন্য নতুন সিডিউলে থাকা প্রথমদিনেই মঙ্গলবার যাত্রী সংকটের অজুহাত দেখিয়ে ফ্লাইট বাতিল করা হয়। অথচ একইদিন বিমানের চেয়ে বেশি ভাড়া হলেও শতাধিক যাত্রী পরিবহন করেছে ‘ইউএস বাংলা’।
 
যাত্রীদের অভিযোগ বিমানের নতুন সিডিউলে কবে কখন বরিশাল বা ঢাকা প্রান্ত থেকে ফ্লাইট চলবে তার কিছুই জানতে পারেন না তারা। যদি কেউ জানার পর বিমানের কাউন্টারে যান তাকে জানানো হয়: টিকেট নেই। অথচ বিমান চলছে যাত্রী ছাড়াই। এভাবেই কৌশলে লোকসানি রুটে দাঁড় করানো হয় বিমানকে।
 
এর আগে একইভাবে বার বার ফ্লাইট বাতিল করে নানা কৌশলে লোকসানি রুট হিসাবে দাঁড় করিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ২০০৬ সালের ১৬ নভেম্বর বন্ধ করে দেয়া হয়।