পানামা পেপার্স: আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০১৬, ২২:৫৩
পানামা পেপারস কেলেঙ্কারি ফাঁস হওয়ার পর পদত্যাগ করেছেন আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সিগমুন্ড গুনলাগসন।
 
পানামার একটি ল’ ফার্মের গোপন নথি ফাঁসের পর এই প্রথম কোনও মন্ত্রীর পদত্যাগের ঘটনা ঘটল। কৃষিমন্ত্রী এখন নতুন প্রধানমন্ত্রী হবেন। 
 
বিশ্বের ধনী আর ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা কোন কৌশলে কর ফাঁকি দিয়ে কিভাবে গোপন সম্পদের পাহাড় গড়েছেন তা বেরিয়ে এসেছে ফাঁস হওয়া নথিতে। এতে করে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন ওইসব ব্যক্তিরা।
 
নথি অনুযায়ী, আইসল্যান্ডের গুনলাগসন একটি বিদেশি কোম্পানির মাধ্যমে দেশের ব্যাংকগুলোতে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছেন, যা তিনি গোপন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগের মুখে তিনি প্রেসিডেন্টকে পার্লামেন্ট ভেঙে দেয়ার আহ্বান জানালেও প্রেসিডেন্ট তা প্রত্যাখ্যান করেন।
 
এর আগে স্ত্রীর সঙ্গে যৌথ মালিকানায় থাকা কোম্পানি উইনট্রাসের বিস্তারিত প্রকাশ্য হয়ে পড়ার পর প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে তার সরে যাওয়ার দাবি সামনে চলে আসে। তার পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভও করে মানুষ। তবে পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানান গুনলাগসন। কিন্তু এরপরই পদত্যাগের জন্য এমনকি ক্ষমতাসীন জোট সরকার থেকেও প্রচণ্ড চাপের মুখে পড়েন তিনি।
 
এ চাপের মুখে মঙ্গলবার ফেইসবুকে গুনলাগসন তার অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি কোনো আইন ভঙ্গ করেননি এবং তার স্ত্রী আর্থিকভাবে লাভবানও হননি বলে জানান।
 
ফাঁস হয়ে যাওয়া নথির বরাতে দেখা গেছে প্রধানমন্ত্রী সিগমুন্ড গুনলাগসন ও তার স্ত্রী ২০০৭ সালে উইনট্রাস নামের কোম্পানিটি ক্রয় করেন। ২০০৯ সালে দেশটির পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হওয়ার সময় তিনি প্রতিষ্ঠানটি থেকে পাওয়া লভ্যাংশের কথা গোপন করেছিলেন। ২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রী গুনলাগসনের স্ত্রী আনা সিগুরলাগ পালসডোটিরের সই করা একটি নথিতে দাবি করা হয়েছে, উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার কোম্পানিটির মাধ্যমে বিনিয়োগ করা হয়েছে।
 
ফাঁস হয়ে যাওয়া তথ্যে জানা গেছে, গুনলাগসনকে উইনট্রাসের সাধারণ আইনি ক্ষমতা দেওয়া আছে। এর মধ্যদিয়ে কোনো প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই তাকে কোম্পানিটি পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হয়।
 
গুনলাগসনের মুখপাত্ত্রের দাবি, পালসডোটির সবসময় কর কর্তৃপক্ষের কাছে তার সম্পদের হিসাব দিয়েছেন। কিন্তু পার্লামেন্টের নিয়ম অনুসারে উইনট্রাসের লাভ জানানোর প্রয়োজন নেই গুনলাগসনের। বিডিনিউজের।