জেএমবি মাসুমের মৃত্যুদণ্ড বহাল, আমজাদের পুনর্বিচারের নির্দেশ

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০১৬, ১৫:০৯
 
লক্ষ্মীপুর জজ কোর্টে বোমা হামলা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সদস্য মাসুমুর রহমান ওরফে মাসুমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। বুধবার প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ এই রায় দেয়।
 
একই সঙ্গে নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জেএমবি সদস্য মোহম্মদ আমজাদ আলীকে খালাস দিয়ে হাইকোর্টের রায় বাতিল করেছে আপিল বিভাগ। এই মামলায় আমজাদ আলীর পুনর্বিচারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে কনডেম সেল থেকে সাধারণ কয়েদিদের সেলে রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। 
 
২০০৫ সালের ৩ অক্টোবর লক্ষীপুর জেলা জজ আদালতে বোমা হামলা করে জেএমবি সদস্য মাসুমুর রহমান ওরফে মাসুম। এ ঘটনায় ঐদিনই মামলা দায়ের করেন লক্ষীপুর জেলা জজ আদালতের নাজির বজলুর রহমান।
 
এজাহারে বলা হয়, যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালতে বিচার চলাকালে বোমা হামলা চালানো হয়। এতে ওই আদালতের বিচারক এমএ সুফিয়ান, বেঞ্চ অফিসার মো. শফিকুল্লাহসহ কয়েকজন বিচারপ্রার্থী গুরুতর আহত হন। পরে তাদের মধ্য থেকে মজিবুল হক নামে এক বিচার প্রার্থী মারা যায়। পরে এ ঘটনায় পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরে ঐ ঘটনায় দায়েরকৃত দুটি মামলায় ২০০৬ সালেল ১৫ আগষ্ট মাসুম, আতাউর রহমান সানী ও আমজাদ আলীকে ফাঁসি দেয় লক্ষ্মীপুরের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। বিস্ফোরক ও হত্যা মামলায় তাদেরকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
 
এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন আসামিরা। আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় অন্য মামলায় সানীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। বাকি দুজনের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. শওকত হোসেনের ডিভিশন বেঞ্চ মাসুমের ফাঁসি বহাল রাখে। তবে আমজাদ আলীকে খালাস দেয়। এই খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। এছাড়া খালাস চেয়ে আপিল করেন মাসুম। দুজনের আপিলের ওপর মঙ্গলবার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আজ রায়ের জন্য দিন ধার্য রাখে আদালত।
 
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যঅটর্নি জেনারেল শশাংক শেখর সরকার ও আসামি পক্ষে দেলোয়ার হোসেন শুনানি করেন।